ঢাকার আদালতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাজিরা দিলেন লতিফ সিদ্দিকী। সঙ্গে ছিলেন কাদের সিদ্দিকী। আদালত তার আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার আবেদন মঞ্জুর করেছে।
উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্তির পর ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী রবিবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ছোট ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের সিদ্দিকী। ভাই দু’জনকে একসঙ্গে আদালতপাড়ায় দেখা যাওয়ায় তা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি, নতুন তারিখ নির্ধারণ
মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এদিন ধার্য করা ছিল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে।
কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা—শাহবাগ থানার এসআই তৌফিক হাসান—এদিন কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান,
“তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছেন।”
এতে মামলার কার্যক্রম আরও পিছিয়ে গেলেও আদালতে উপস্থিত লতিফ সিদ্দিকী ও তার দলের আইনজীবীরা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেন।
বয়স ও অসুস্থতার কারণে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন
হাজিরা শেষে লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষ থেকে তার আইনজীবী রেজাউল করিম হিরণ আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা অব্যাহতির আবেদন করেন। আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে—
- লতিফ সিদ্দিকীর বয়স ৮৬ বছর,
- তিনি বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন,
- নিয়মিত আদালতে এসে হাজিরা দেওয়া তার পক্ষে শারীরিকভাবে কঠিন।
আইনজীবী বলেন,
“তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার পর্যাপ্ত যুক্তি রয়েছে। আদালত আমাদের আবেদনটি মঞ্জুর করলে তার শারীরিক কষ্ট কমবে।”
শুনানি শেষে আদালত আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর ফলে মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখগুলোতে লতিফ সিদ্দিকীকে আর ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে না।
‘তিনি আর আদালতে আসতে হবে না’—আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া
আদালত কক্ষের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনজীবী রেজাউল করিম হিরণ বলেন, “আমরা আদালতের কাছে লতিফ সিদ্দিকীর শারীরিক অবস্থা ও বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি।
আদালত বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেছেন এবং আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
এখন তাকে আর আদালতে আসার প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, লতিফ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে নিয়মিত বিশ্রাম ও পর্যবেক্ষণে আছেন।
শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটি গত কয়েক মাস ধরে চলমান। মামলাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হওয়ায় এর অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লতিফ সিদ্দিকী আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর আদালতে হাজিরার বিষয়ে তার দলের নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
লতিফ সিদ্দিকীর আদালতে উপস্থিতি ও তার সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর যাওয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেও আদালতীয় প্রক্রিয়ায় মানবিক বিবেচনার বিষয়টি স্পষ্ট। তার বয়স ও অসুস্থতার কারণে আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা তার পরিবারের জন্য স্বস্তিদায়ক।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার অগ্রগতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা আসবে বলে জানা গেছে।
