বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংকটে স্বরাষ্ট্র সচিবের রহস্যজনক পাকিস্তান সফর নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা।
বাংলাদেশে যখন ছাত্র আন্দোলনের রায় ঘিরে উত্তেজনা, উগ্রপন্থীদের উত্থান এবং সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতার আবহ, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনির দীর্ঘ পাকিস্তান সফর নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এমন একটি দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব—যিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পদে আছেন—তার ঘনঘন পাকিস্তান সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকরা স্পষ্টভাবে “গভীর ষড়যন্ত্র” এর গন্ধ পাচ্ছেন
স্বরাষ্ট্র সচিবের বারবার পাকিস্তান সফর: কেন অস্বাভাবিক?
নাসিমুল গনি ৭ নভেম্বর থেকে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন—যা একটি “অফিশিয়াল কিন্তু গোপনীয়” সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে মাত্র দেড় মাস আগে তিনি পাকিস্তানে ৯ দিনের সফর করেছিলেন।
অর্থাৎ ২ মাসে দুইবার দীর্ঘ পাকিস্তান ভ্রমণ, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই সফর সম্পর্কে—
- কোনো সরকারি ঘোষণা নেই
- কোনো ব্রিফিং নেই
- সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন
- কার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে—সেটিও অস্পষ্ট
এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—
দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তা যখন দেশের বাইরে, তখন কারা দেশের নিরাপত্তা পরিচালনা করছে?
হিজবুত তাহরির সংযোগের অভিযোগ: নিরাপত্তা শঙ্কা কি আরও বাড়ছে?
নাসিমুল গনির বিরুদ্ধে অতীতে উগ্রপন্থী সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ ছিল—যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
এমন একজন কর্মকর্তার পাকিস্তানে দীর্ঘ অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের জায়গা তৈরি করে:
পাকিস্তানে কি কিছু পুনরায় সক্রিয় করা হচ্ছে?
কোনো উগ্র ইসলামপন্থী ব্লক কি আবার মাথা তুলছে?
অথবা এটি কি আঞ্চলিক শক্তির নতুন কোনো চুক্তি?
ইউনূস সরকারের গোপন পাকিস্তান ঝোঁক—নতুন ভারসাম্য নাকি নতুন ঝুঁকি?
বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, ৮ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেছে।
এই সময়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের যেসব কার্যক্রম প্রশ্ন তুলছে:
- পাকিস্তানি মন্ত্রীদের ঢাকা সফর
- পাকিস্তান নৌবাহিনী প্রধানের আগমন
- জানুয়ারিতে আইএসআই টিমের ভারত সীমান্ত ভিজিটের পরিকল্পনা
এগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে—
বাংলাদেশের নিরাপত্তা কাঠামোতে ইসলামাবাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তানকে সামনে আনা একটি বিপজ্জনক ভূ-রাজনৈতিক খেলা।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটে স্বরাষ্ট্র সচিব অনুপস্থিত—কী বার্তা দিচ্ছে?
যখন—
- উগ্র ইসলামপন্থীরা সক্রিয়
- ছাত্র আন্দোলনোত্তর উত্তেজনা চলছে
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাপে
- বিচারিক রায় ঘিরে অস্থিরতা বাড়ছে
ঠিক তখনই দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব বিদেশে—তা-ও ১০ দিনের বেশি!
এটি শুধুই দায়িত্বহীনতা নয়—
এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রতি চরম অবহেলা।
ভিসা-বাতিল সিদ্ধান্ত: কোন অপপ্রয়াসের অংশ?
সম্প্রতি সরকারের সিদ্ধান্ত—
কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য পাকিস্তান ভিসা বাধ্যতামূলক নয়—বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য—
গোপন যাতায়াত, গোপন বৈঠক, অপ্রকাশিত লেনদেন এর পথ আরও সহজ হবে।
রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিরোধী কোনো চুক্তি গোপনে হচ্ছে কি?
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠে:
- পাকিস্তানে কী ধরনের “ডিল” হচ্ছে?
- এটি কি ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার চুক্তি?
- কোনো নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা সমঝোতা হচ্ছে কি?
- এতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি?
বাংলাদেশের জনগণ এসব প্রশ্নের জবাব জানতে অধিকার রাখে।
