ডিবি মঙ্গলবার মধ্যরাতে সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে বাসা থেকে নিয়ে যায় এবং বুধবার সকালে তাকে বাসায় ফিরিয়ে দেয়। এনইআইআর বাস্তবায়ন ও মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন ঘিরে তাকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন প্রধান এবং অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেলকে তার বাড্ডার বাসা থেকে নিয়ে যায়। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বুধবার সকাল ১০টার কিছু পরে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয় বলে তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে বলেন,
“প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বাসায় এলাম। ডিবি আমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। আমি সুস্থ আছি।”
ডিএমপির ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, মিজানুরকে একটি বিষয়ে কথা বলার জন্য রাতে নিয়ে আসা হয়েছিল
এবং পরে রাতেই তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে কোন বিষয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।
এনইআইআর ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন ঘিরে মনস্তাত্ত্বিক চাপের অভিযোগ
কি বিষয়ে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়—এমন প্রশ্নে মিজানুর রহমান সোহেল বলেন, ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্ট্রার (এনইআইআর)
কার্যকরের প্রেক্ষাপটে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও করণীয় নিয়ে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। তিনি এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত।
তার দাবি, ডিবি কর্মকর্তারা তাকে ওই সংবাদ সম্মেলন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং তাদের আচরণে মনে হয়েছে “উপরের মহলের নির্দেশনায়” তারা চান, এই সংবাদ সম্মেলন না হোক।
এ কারণে তাকে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ ও রাতের ঘটনা
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাড্ডার বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ
অনলাইন ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সংগঠন ‘অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্স’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মিজানুর রহমান সোহেল পরিচিত।
তাকে হঠাৎ রাতে তুলে নেওয়া এবং দীর্ঘ সময় আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদে সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এনইআইআর বাস্তবায়ন ও মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ঘিরে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
তার সঙ্গে যুক্ত একজন সাংবাদিককে মধ্যরাতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে অনেকেই উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করছেন।
