GA3VH শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও অস্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া বলে নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তুলেছে জোটটি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায়কে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানবাধিকারবিরোধী” বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আন্তর্জাতিক জোট Global Alliance Against Atrocity and Violence on Humanity (GA3VH)। রোববার (১৭ নভেম্বর) সংগঠনটি সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
সংগঠনটির চেয়ারপারসন ইশরাত আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, অনুপস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি—সবকিছুর স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
দ্রুত ও অস্বচ্ছ বিচার নিয়ে প্রশ্ন
GA3VH বলেছে:
- রায় দেওয়ার গতি অস্বাভাবিক দ্রুত
- আসামির অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী
- প্রতিরক্ষা পক্ষ পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পায়নি
- সাক্ষীদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “এটি বিচার নয়, বরং একটি পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিশোধ।”
‘রাষ্ট্র-সাক্ষীতে পরিণত’—বড় ধরনের অনিয়ম
GA3VH অভিযোগ করেছে, বহুসংখ্যক সাক্ষীকে—
- চাপ প্রয়োগ,
- ভয়ভীতি,
- ও “স্টেট উইটনেস” হিসেবে জোরপূর্বক দাঁড় করানো হয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে:
“কাউকে জোর করে রাষ্ট্র-সাক্ষী বানানো হলে পুরো বিচারই অবৈধ হয়ে যায়।”
‘১৪০০ নিহত’—প্রমাণহীন দাবি নিয়ে প্রশ্ন
জুলাইয়ের সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা ১৪০০ বলে যে দাবি করা হয়েছে, GA3VH তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়:
- সরকার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়নি
- গণহত্যার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যাচাই হয়নি
- মৃতের সংখ্যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলা হতে পারে
জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টির উদ্বেগ পুনরায় স্মরণ করালো GA3VH
GA3VH জানিয়েছে—
- জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
- হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
—ইতোমধ্যেই এই বিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থাহীনতাকে আরও গভীর করেছে।
GA3VH-এর চার দফা দাবি
১. রায় অবিলম্বে স্থগিত বা বাতিল
২. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে পুনর্বিচার
৩. মানবাধিকার লঙ্ঘনেরতা বন্ধ
৪. বিচার ব্যবস্থার রাজনৈতিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকা
সংগঠনটি বলেছে—
“রায় কার্যকর হলে এটি হবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতার সর্ববৃহৎ প্রদর্শন।”
কারা সই করেছে?
প্রতিবেদনে বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের মানবাধিকারকর্মীসহ ২০ জন সই করেছেন, যার মধ্যে রয়েছেন—
ইশরাত আলম, শাহাবুদ্দিন, তারেক চৌধুরী, সুকান্ত বড়ুয়া, সুশান্ত বড়ুয়া, জাহাঙ্গীর সাঈদ, মুকুল বিশোরসহ অনেকে।
বিশ্লেষণ: এই বিবৃতি বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ বহন করে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
- এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে
- ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে
- সরকারকে মানবাধিকার ইস্যুতে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে
- কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে
এছাড়া, GA3VH-এর দাবি বিশ্ব মিডিয়ায় বাংলাদেশ ইস্যুকে নতুন করে আলোচনায় তুলতে পারে।
