জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান অজিত দোভালের আমন্ত্রণে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই দিল্লি গেছেন। মানবতাবিরোধী মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ পরবর্তী পরিস্থিতি ঘিরে এ সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে কূটনৈতিক মহল।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আমন্ত্রণে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপে অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই দিল্লি গেছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। তার বুধবার ভারত যাওয়ার কথা থাকলেও সফর এগিয়ে এনে তিনি মঙ্গলবারই নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি ফিরবেন বৃহস্পতিবার রাতে।
ওয়াকিবহাল সূত্রের ধারণা, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সফরটি আগে আনা হয়েছে।
আগামী ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (CSC) বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
এর আগে ভারতের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ
অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার জন্য ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।
রায়ের পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে খলিলুর রহমান ও অজিত দোভালের বৈঠকে কোন বিষয়গুলি প্রাধান্য পাবে—তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রথম ভারত সফর
১৫ মাস আগে ছাত্র–জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এটি প্রথম ভারত সফর।
গত বছরের ৫ আগস্টের ঘটনার পর শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
তার সরকারের পতনের এক মাস পর নিউইয়র্কে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের প্রথম বৈঠক হয়।
পরবর্তী সময়ে—
- গত ডিসেম্বর ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক,
- এপ্রিলে ব্যাংককের বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক—
- এসব আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
ভারতের সংযত প্রতিক্রিয়া সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত
শেখ হাসিনার মামলার রায়ে ভারত এখন পর্যন্ত সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যত উন্নয়নে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ড. খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা,
সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শেখ হাসিনা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
