অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা থেকে ভারত যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করেছে বলে জানালেন সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। পাকিস্তানকে কঠোর সতর্কবার্তাও দেন।
ভারতের সেনাবাহিনী “ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত”—এ ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানকে সরাসরি সতর্ক করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘চাণক্য ডিফেন্স ডায়ালগস’–এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুর ছিল শুধু একটি ট্রেলার। পাকিস্তান আবার সুযোগ দিলে আমরা দেখিয়ে দেব, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ বলতে কী বোঝায়।” দ্বিবেদীর এই নতুন মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা আরও এক ধাপ বাড়িয়েছে।
অপারেশন সিঁদুর: ভারতীয় সামরিক সক্ষমতার নতুন প্রদর্শনী
জেনারেল দ্বিবেদীর মতে, সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ ভারতের দ্রুত প্রতিক্রিয়া, সমন্বিত কমান্ড ও অস্ত্র প্রস্তুতির এক পরীক্ষিত মডেল।
মাত্র ৮৮ ঘণ্টায় অভিযান শেষ হওয়াকে তিনি “সক্ষমতা প্রদর্শনের দৃষ্টান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন। “পরের যুদ্ধ —চার মাস বা এমনকি চার বছরও হতে পারে।”
এই অভিযান তিনটি বড় শিক্ষা দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন—১। বাহিনীগুলোর সমন্বিত অপারেশন
.২। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত রসদ মজুত
৩। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎগতির গতি
বহুমাত্রিক যুদ্ধ: থ্রি-ডাইমেনশনাল মিলিটারি স্ট্রাটেজি
আজকের যুদ্ধ আর কেবল সীমান্তে সৈন্য দিয়ে লড়া যায় না। প্রয়োজন তিন বাহিনী— সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ সমন্বয়- জানান দ্বিবেদী
এছাড়া আধাসামরিক বাহিনী, সাইবার কমান্ড ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটগুলোকেও সমানভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
পাকিস্তানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি
“রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদই ভারতের বড় উদ্বেগ। আলোচনা ও সন্ত্রাস—দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। যদি কেউ ভারতের অগ্রগতিতে বাধা দেয়, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব” – বলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান।
স্পষ্ট পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখা–সংলগ্ন হামলা বা রাষ্ট্রসমর্থিত জঙ্গি কার্যক্রম ঘটলে ভারত ভবিষ্যতে “অতিরিক্ত আগ্রাসী” প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
কাশ্মীর পরিস্থিতি: ৩৭০ বাতিলের পর নিয়ন্ত্রণ ভারতে দৃঢ়
২০১৯ সালের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর কাশ্মীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি “উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত” হয়েছে, “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও ব্যাপকভাবে কমেছে”- বলেও দাবি করেন দ্বিবেদী
এ বক্তব্য পাকিস্তানকে উদ্দেশ করেই দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সারকথা
এই শক্ত বার্তা তিনটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ:
১. পহেলগাম হামলার পর রাজনৈতিক চাপ- ভারতীয় সরকার ও সেনাবাহিনীকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।
২. পাকিস্তানের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা- এই অবস্থায় ভারত ভবিষ্যৎ সংঘাতের আগাম প্রস্তুতি দেখাতে চায়।
৩. চীন–ভারত উত্তেজনার মধ্যেই দ্বিতীয় ফ্রন্টের সতর্কতা- ভারত চায়, পাকিস্তান যেন সীমান্তে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি না করে।
