তৌহিদী জনতার হামলায় ঐশির পালানো—নিরাপত্তাহীন শিল্প-সংস্কৃতি ও ইউনুস-জামাত-বিএনপি জোটের অস্থিতিশীল এটাই ‘নতুন বাংলাদেশ’।
বাংলাদেশ আজ এক জটিল ও উদ্বেগজনক সময় পার করছে। সম্প্রতি কণ্ঠশিল্পী ঐশি ইসলামিক মৌলবাদী তৌহিদী জনতার হঠাৎ হামলা থেকে বাঁচতে মই বেয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষা করেছেন—এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক নিরাপত্তার ভয়াবহ সংকটের প্রতিচ্ছবি।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বহু মানুষ বলছেন, “এই কি সেই নতুন বাংলাদেশ, যার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল?”
ইউনুস—জামাত—বিএনপি জোটের আগ্রাসী রাজনীতি
বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসী ধাঁচের তৌহিদী জনতার উত্থান অনেক বিশ্লেষকের মতে “নিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলা”র ফল। অভিযোগ রয়েছে, ড. ইউনুসের ছত্রছায়ায় জামাত-বিএনপি আবারও ধর্মীয় উগ্রবাদকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে নামাচ্ছে—এমন অভিযোগ জনমনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যে বাংলাদেশ একসময় প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য পরিচিত ছিল, সেখানে এখন শিল্পীদের প্রকাশ্যে গান গাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বাকস্বাধীনতা ও শিল্প-সংস্কৃতি হুমকির মুখে
হামলার উদ্দেশ্য একটাই—ভয় প্রদর্শন।
যেখানে শিল্পী ঐশির মতো পরিচিত কণ্ঠশিল্পীও নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ নাগরিকদের অবস্থান আরও সংকটজনক।
এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়:
মানুষ কি আর স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে? শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকরা কি আর মুক্তভাবে কাজ করতে পারবেন?
যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় অদক্ষতা, অরাজকতা ও ধর্মীয় উগ্রবাদের প্রতি নীরব সমর্থন অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অগ্রগতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে—এটি বলার অপেক্ষা রাখে না।
দেশ আফগান-পাকিস্তান মডেলের দিকে হাঁটছে?
সমালোচকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো খুবই পরিচিত এক প্যাটার্ন অনুসরণ করছে—
প্রথমে উগ্রবাদ তৈরি, পরে রাজনৈতিক ছাড়, তারপর রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুর্বল করে ফেলা।
দেশে এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের অস্থিতিশীল সময়কে মনে করিয়ে দেয়।
যেখানে সংস্কৃতি নয়, ভীতি—
যেখানে শিল্প নয়, নিষেধাজ্ঞা—
যেখানে মানবিকতা নয়, হিংস্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর আধিপত্য সামনে এসে দাঁড়ায়।
এটাই কি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?
লাল বাহিনীর উত্থান এবং জনরোষের আগুন
সামাজিক প্ল্যাটফর্মে মানুষ বলছেন—
“কেমন লাগে লাল বাহিনী? প্রোফাইল লাল কর।”
এটি শুধু প্রতীকী প্রতিবাদ নয়; বরং জনরোষ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ।
যারা নতুন বাংলাদেশের নামে ক্ষমতায় এসেছে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে।
অনেকে বলছেন—
“স্বাধীন বাংলাদেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আগেই ভালো ছিলাম।”
এই মনোভাব বিপজ্জনক। কারণ, যখন জনগণ রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস হারায়, তখন বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতাই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়।
আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান?
একটি রাষ্ট্র তখনই এগিয়ে যায় যখন শিল্প-সংস্কৃতি নিরাপদ থাকে, নাগরিক মুক্তভাবে মত প্রকাশ করতে পারে এবং আইনের শাসন দৃশ্যমান থাকে।
কিন্তু তৌহিদী জনতার এই হামলা, ঐশির পালিয়ে বাঁচা, এবং রাষ্ট্রের নীরব অবস্থান—সব মিলিয়ে যে বাংলাদেশ তৈরি হচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এমন বাংলাদেশ কি আমরা চাই?
যেখানে শিল্প অরক্ষিত, স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ, আর উগ্রবাদ রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে?
রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়কে এখনই সতর্ক হতে হবে—নইলে ইতিহাসের কঠিন মূল্য দিতে হবে।
