পাকিস্তানি জঙ্গি নেতা শামশের খানের গোপন চট্টগ্রাম সফর, জামায়াত–হেফাজত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং সম্ভাব্য নাশকতা পরিকল্পনার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট তথ্য।
নিষিদ্ধ পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন হুজি (HUJI)–র শীর্ষ নেতা শামশের খান আগের কোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি গোপনীয়তায় ১৬–১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম সফর করেছেন—এমন বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেছে নিরাপত্তা সংস্থা। তাঁর পুরো সফরজুড়ে ব্যবহার করা হয় একটি ভুয়া নাম—“মোহাম্মদ কারীম”, যাতে সীমান্ত, হোটেল বা স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো সন্দেহ না জন্মায়।
জামায়াত নেতার বাড়িতে ‘ক্লোজড ডোর’ বৈঠক
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, শামশের খানের অবস্থান ছিল জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ শাহজাহান–এর মালিকানাধীন চট্টগ্রাম শহরের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে। সেখানে টানা কয়েক দফা বৈঠক হয়, যেখানে অংশ নেন স্থানীয় জামায়াত–ছাত্রশিবির নেতারা।
বৈঠকগুলোতে আলোচনার কেন্দ্র ছিল—
- দেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা,
- বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠনের সমন্বয়,
- আগামীর সম্ভাব্য নাশকতা পরিকল্পনা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এসব আলোচনার স্বরূপ দেখে মনে হচ্ছে, বিদেশি জঙ্গি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
লালখানবাজার মাদ্রাসায় হেফাজত নেতার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক
তাঁর সফরের দ্বিতীয় দিনে শামশের খান যান চট্টগ্রামের লালখানবাজার মাদ্রাসায়, যেখানে হেফাজতের প্রভাবশালী নেতা মুফতি হারুন ইযহার–এর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা—
এই বৈঠকটি ছিল সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে আলোচনা হয়েছে—
- জঙ্গি–রাজনৈতিক সমন্বয়,
- স্থানীয় উগ্রপন্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা,
- আঞ্চলিক নাশকতায় বিদেশি সহায়তার বিষয়সহ
সংবেদনশীল নানা বিষয় নিয়ে।
কক্সবাজারে আরও গোপন যোগাযোগ
বৈঠক শেষে ওই পাকিস্তানি জঙ্গি নেতাকে নিয়ে একটি দল কক্সবাজারে সফরে যায়, যা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে আরও সন্দেহজনক। কক্সবাজারে তিনি কয়েকজন স্থানীয় সদস্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন, যাদের সঙ্গে সম্ভাব্য ‘অপারেশনাল’ সমন্বয়ের আলাপ হয়েছে বলে সন্দেহ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
কেন এত গোপনীয়তা?
বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি কারণে সফরটি অতি–গোপনীয় রাখা হয়—
- নতুন জঙ্গি–রাজনৈতিক জোট গঠনের চেষ্টা
- নাশকতার সম্ভাব্য প্রস্তুতি
- বিদেশি জঙ্গি নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় উগ্রপন্থীদের পুনরায় সক্রিয়করণ
নিরাপত্তা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন—
“ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা, সীমিত যোগাযোগ, হঠাৎ কক্সবাজার সফর—সব কিছুই বড় ধরনের সমন্বিত পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।”
তথ্যদাতার পরিচয় নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ করা হয়নি।
