ঢাকার গুলশানে পাকিস্তানি ‘টেকনিশিয়ান’-এর রহস্যজনক মৃত্যুতে আইএসআই–সেনা সংযোগের সন্দেহ। কর্ণফুলীতে তাঁর চাকরি ও গোপন যোগাযোগ নিয়ে বিতর্ক।
রাজধানী ঢাকার গুলশানে একটি অভিজাত হোটেল থেকে পাকিস্তানি নাগরিক আহমেদ খান (৩৮)–এর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আইএসআই এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গোপন কার্যকলাপ নিয়ে। গত ২৯ নভেম্বর রাতে হোটেল রুম থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ‘হার্ট অ্যাটাক’ উল্লেখ করলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সন্দেহ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
আহমেদ খান গত ১৫ সেপ্টেম্বর ‘টেকনিশিয়ান’ ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার একটি টেক্সটাইল মিল–এ কাজ করছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি ঢাকায় একটি ‘ব্যবসায়িক মিটিং’-এ অংশ নিতে এসে হোটেলে ওঠেন। পরদিন রাতে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
কর্ণফুলীতে চাকরি—নাকি কভার অপারেশন?
নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, কর্ণফুলীতে পাকিস্তানি নাগরিকের চাকরির ঘটনা নজিরবিহীন। এর আগে ওই এলাকায় পাকিস্তানি টেকনিশিয়ান বা প্রকৌশলীর চাকরির কোনো তথ্য নিরাপত্তা সংস্থার নথিতে ছিল না।
পুলিশ এখনো আহমেদ খানের কল রেকর্ড বা ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ প্রকাশ করেনি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হতে পারে আইএসআই-এর সাধারণ কৌশল—
সাধারণ চাকরির পরিচয়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম।
ভারতের গোয়েন্দা সতর্কতা: আইএসআই–সেনা সদস্যদের বাংলাদেশ সফর
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা এবং আইএসআই সদস্যদের বাংলাদেশে আসা–যাওয়ার বিষয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একাধিক সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সম্প্রতি মন্তব্য করেন—
“পাকিস্তানি সেনা ও আইএসআই কর্মকর্তারা বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তবর্তী চিকেনস নেক এলাকায় সফর করেছেন, যা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঝুঁকি তৈরি করছে।”
এই প্রেক্ষাপটে একজন পাকিস্তানি নাগরিকের কর্ণফুলীতে চাকরি এবং ঢাকায় রহস্যজনক মৃত্যু নাড়া দিয়েছে নিরাপত্তা মহলকে।
মৃত ব্যক্তির ভাই ঢাকায়, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অপেক্ষমাণ
শনিবার সকালে মৃত ব্যক্তির ভাই মো. সেলিম আখতার (৫৫) ঢাকায় এসে মরদেহ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখনো প্রকাশ হয়নি।
এর আগে একই ধরনের পরিস্থিতিতে গুলশানের আরেকটি হোটেল থেকে একজন মার্কিন নাগরিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তাপেই বাড়ছে সন্দেহ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ কিছুটা বাড়লেও—
১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধ, জঙ্গিবাদ ও গোয়েন্দা কার্যকলাপের ইতিহাস এই ধরনের ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—
- এটি স্বাভাবিক মৃত্যু হলে কোনো সমস্যা নেই,
- কিন্তু যদি এটি একটি কভার অপারেশনের অংশ হয়, তবে এটি বড় একটি নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত হতে পারে।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিট তদন্তে
বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিট তদন্ত শুরু করেছে এবং পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফরহাদ হোসেন এক বিবৃতিতে বলেন—
“বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে আমরা সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করছি। গোয়েন্দা কার্যক্রম বা সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হবে না।”
ঘটনাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
