ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট। নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা ও ইলেকটোরাল সার্ভিস কমিশন গঠনের দাবি।
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব ও আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম বুধবার এ রিট আবেদন করেন। তিনি জানান, বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহেই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
রিটে কী চাওয়া হয়েছে?
রিট আবেদনে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয়েছে—
১. নির্বাহী বিভাগ থেকে সচিব ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা
রিটকারীর দাবি, নির্বাচন কমিশনের সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্বাহী বিভাগ থেকে নিয়োগ দেওয়া সংবিধানবিরোধী।
নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের নিজস্ব লোকবল থেকে এসব নিয়োগ দিতে হবে।
২. ইলেকটোরাল সার্ভিস কমিশন গঠনের নির্দেশনা
রিটে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের মতো নির্বাচন কমিশনের জন্যও আলাদা একটি ‘ইলেকটোরাল সার্ভিস কমিশন’ থাকা উচিত। এতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা আরও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে।
৩. রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত
রিটে রুল জারির পাশাপাশি চাওয়া হয়েছে, রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক।
রিটকারীর যুক্তি: ‘নির্বাহী বিভাগ নিরপেক্ষতা হারিয়েছে’
আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম জানান, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও বাস্তবে প্রতি নির্বাচনে নির্বাহী বিভাগই কার্যত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে।
তার ভাষায়—
“নির্বাহী বিভাগ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করে।
তাদের দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে—এটা মানুষ বিশ্বাস করে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাহী বিভাগ বর্তমানে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা হারানো এক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
তাই নির্বাচন কমিশনকেই নিজস্ব ক্যাডার বা কাঠামো গড়ে দায়িত্ব নিতে হবে।
ইসির লোকবল সংকট ও বিতর্ক
বাংলাদেশে বহু বছর ধরে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব লোকবল নেই—এমন অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত।
সচিবালয়ের বড় অংশই প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠায় এই কাঠামোর সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই আছে।
রিটকারীর মতে, নিজস্ব লোকবল ছাড়া নির্বাচন কমিশন কখনোই পুরোপুরি স্বাধীন হতে পারে না।
ফলে নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে ইলেকটোরাল সার্ভিস কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আসন্ন শুনানি ও সম্ভাব্য প্রভাব হাইকোর্ট যদি প্রাথমিকভাবে রুল জারি করে, তাহলে এটি নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও নির্বাচনী তফসিল বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন স্থগিতের আবেদন আদালত আমলে নিলে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এখন নজর সবারই হাইকোর্ট বেঞ্চের আগামী সপ্তাহের শুনানির দিকে।
