ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতৃবৃন্দের কথোপকথন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ ও ডিউটি বণ্টনের তথ্য সামনে এসেছে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে এবং বাইরে নিয়ন্ত্রণ, ডিউটি বণ্টন এবং নির্দেশনা সংক্রান্ত একটি কথোপকথন সামনে এসেছে, যা ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা একযোগে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।
সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর মোঃ আব্দুল জলিল, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এবং ব্যাংকের বিভিন্ন পদে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্বাচন কেন্দ্রিক ডিউটি-পরিকল্পনা ও সমন্বয় আলোচনার অংশ বেরিয়ে এসেছে। কথোপকথনের বিষয়বস্তু ইঙ্গিত করে—ভোট গ্রহণ ও প্রতিটা বুথের নিয়ন্ত্রণ কোন ব্যক্তির হাতে থাকবে, কোন কর্মকর্তা কোন এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে, কোন কেন্দ্রকে ‘সংবেদনশীল’ বিবেচনা করা হবে—এসব নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
কোন কথোপকথন সামনে এসেছে?
ফাঁস হওয়া আলাপচারিতায় পাওয়া গেছে—
- ভোটকেন্দ্রের ভেতরে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান নিশ্চিত করা
- ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী ডিউটি ভাগ করে দেওয়া
- ভোটার লাইন, বাছাই ও প্রবেশ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
- কেন্দ্রের বাইরে জামায়াত-সংলগ্ন তৎপরতা সমন্বয়
- “ফোনে সমন্বয়” ও “টিম ভাগ” করার উল্লেখ
এই আলোচনাগুলো প্রমাণ করে যে নির্বাচনটিকে “অভ্যন্তরীণ ব্যাংক প্রক্রিয়া” নয়, বরং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক স্বার্থে নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ উঠছে
জামায়াতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ভিন্ন
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন—
“ইসলামী ব্যাংকের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই।”
তবে সর্বশেষ পাওয়া কথোপকথন আগের ওই বক্তব্যের বিপরীত প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রশ্ন আগেও উঠেছিল, আর নতুন এই ঘটনাটি বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
ইসলামী ব্যাংক–জামায়াত সম্পর্ক নিয়ে পুরোনো বিতর্ক
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতপন্থী আর্থিক প্রভাব নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দাবি করে—আজকের ইসলামী ব্যাংক “রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত”,
তবে—
- পদের নিয়োগ,
- শাখা ব্যবস্থাপনা,
- আর্থিক তদারকি,
- এবং অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী কাঠামো—
এসবই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয় বলে আর্থিক বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন।
ফাঁস হওয়া নতুন আলাপচারিতা সেই অভিযোগকে আরো শক্তিশালী করেছে।
ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ কতটা গুরুতর?
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হলেও, এসব নির্বাচনের মাধ্যমে—
- কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়,
- বোর্ড ও প্রশাসনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়,
- আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কারা প্রভাবশালী হবে তা নির্ধারণ হয়।
ফলে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হলে তা শুধু ব্যাংকের প্রশাসন নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বিশ্লেষকদের মন্তব্য
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মত—ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ ব্যাংকিং সুশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, ভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ আর্থিক সিদ্ধান্তে পক্ষপাত সৃষ্টি করতে পারে এবং ইসলামী ব্যাংকের বিপুল আমানত ও বিনিয়োগ কাঠামো ঝুঁকিতে পড়তে পারে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
