মুলাদীতে সেতুর নাম পরিবর্তন করে ৩৬ জুলাই রাখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ জনতার হামলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
নিজস্ব প্রতিবেদক;
বরিশালের গৌরনদী–মুলাদী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত নতুন সেতুকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেতুটির নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ জনতা শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উদ্বোধনী প্যান্ডেলে হামলা ও ভাঙচুর চালালে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কাজিরচর এলাকায়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি অনলাইনে যুক্ত হয়ে সম্পন্ন করার কথা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার। কিন্তু তিনি সংযুক্ত হওয়ার আগেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ক্ষোভের মূল কারণ: সেতুর নাম পরিবর্তন
স্থানীয়রা জানান, এলজিইডির অধীনে নির্মাণাধীন ৬১৯ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির পূর্বনির্ধারিত নাম ‘সৌহার্দ্য সেতু’ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে হঠাৎ করেই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এর নাম পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ রাখা হয়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ,
- নাম পরিবর্তন বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত নেয়া হয়নি,
- তাদের অজান্তে সেতুর নাম বদলে দেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে,
- ফলে অনুষ্ঠানে টানটান উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান:
“আমরা কয়েকদিন ধরেই আপত্তি জানিয়েছি। তারপরও স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে নতুন নাম ঘোষণা করায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়।”

সাবেক সচিব এমদাদুল হক মজনুকে আমন্ত্রণ না দেওয়াও ক্ষোভের কারণ
অন্যদিকে স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন যে, সেতুর নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এমদাদুল হক মজনুকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এতে তাদের মাঝে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
অনেকেই মনে করেন,
এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় আবেগকে আঘাত করেছে এবং উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার কারণ হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য: আপত্তির কথা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছিল
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন—
সেতুর নাম ‘৩৬ জুলাই সেতু’ হিসেবে নির্ধারণ করে উদ্বোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে।
তিনি জানান,
“স্থানীয়রা আগেই নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। আমরা বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি।”
পুলিশের অবস্থান: পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক
মুলাদী থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন,
হামলার ফলে আয়োজকেরা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেননি। তবে পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তার ভাষায়—
“বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।”
সেতুটি স্থানীয় যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আনবে
৬১৯ মিটার দীর্ঘ এ সেতুটি উদ্বোধন হলে গৌরনদী, মুলাদী, হিজলা এবং আশপাশের ইউনিয়নগুলোর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে কৃষি, পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়বে।
তবে নামকরণ বিতর্ক এখন প্রকল্পটির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে নড়বড়ে করে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
প্রতারনার প্রতিবাদ
সেতুর নাম পরিবর্তন থেকে শুরু করে স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা—সব মিলিয়ে উত্তেজনার বিস্ফোরণ ঘটেছে মুলাদীতে।
বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো সংঘর্ষ বা বিভ্রান্তি না হয়,
এজন্য প্রশাসন ও স্থানীয়দের মধ্যে আরও স্বচ্ছতা ও আলোচনার প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকদের মত।
