জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ মালিবাগ থেকে আটক, বর্তমানে ডিবি হেফাজতে। মামলা সংক্রান্ত বিস্তারিত জানা যায়নি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, সাংবাদিক শওকত মাহমুদকে রাজধানীর মালিবাগের বাসা থেকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টার পর ডিবির একটি বিশেষ টিম তাকে বাসা থেকে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর গণমাধ্যমকে জানান,
“শওকত মাহমুদ বর্তমানে ডিবির হেফাজতে আছেন। তাকে মালিবাগের বাসা থেকে ডিবির একটি টিম নিয়ে এসেছে।”
তবে তাকে কোন মামলায় বা কোন অভিযোগে আটক করা হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
শওকত মাহমুদের রাজনৈতিক ও পেশাগত পরিচয়
দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায় সম্পৃক্ত শওকত মাহমুদ বাংলাদেশের জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বিএফইউজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করে।
দলটির চেয়ারম্যান হন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এবং মহাসচিব হন শওকত মাহমুদ। রাজনৈতিকভাবে নতুন যাত্রা শুরু করার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনায়, সভা-সমাবেশে এবং টেলিভিশন টকশোতে সক্রিয় ছিলেন।
আটকের প্রেক্ষাপট কী?
সূত্র বলছে—সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে সরকারবিরোধী বক্তব্য এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়।
তবে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আটক বা গ্রেফতারের কারণ জানায়নি। আইনগতভাবে আটক ও গ্রেফতারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
গ্রেফতার হলে তার বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগের তথ্য প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু আটক অবস্থায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউকে ধরে রাখতে পারে।
শওকত মাহমুদ কোন অবস্থায় আছেন—সেটি পুলিশের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতিক্রিয়া
তার পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ করেই ডিবির একটি টিম বাসায় প্রবেশ করে তাকে সঙ্গে নিয়ে যায়। তবে তারা ডিবির পক্ষ থেকে কোন আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা কারণ জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন।
সাংবাদিক মহল থেকেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এভাবে হঠাৎ আটক করা উদ্বেগজনক।
গণতান্ত্রিক পরিবেশে যেকোনো গ্রেফতার বা আটকের বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা
বিএনপি এবং জনতা পার্টির নেতারা বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তারা জানিয়েছেন, শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ না জানিয়েই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।
শওকত মাহমুদের আটককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মামলার তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় অস্পষ্টতা বাড়ছে।
ডিবির পক্ষ থেকে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং না আসা পর্যন্ত তার অবস্থান এবং আটকের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
