২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। সিইসি ঘোষণা করলেন ভোটের সময়, ব্যালট রং ও অন্যান্য নিয়ম।
১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: সিইসির ঘোষণা
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের এই তারিখ ঘোষণা করেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা
সিইসির ঘোষণায় বলা হয়—
- ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭:৩০ মিনিটে
- শেষ হবে বিকেল ৪:৩০ মিনিটে
- এ বছর ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা এই নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি নতুন সংযোজন।
নির্বাচন কমিশনের মতে, “ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানো ও সার্বিক ভোটিং চাপ কমাতে” এই বাড়তি সময় রাখা হয়েছে।
ব্যালটের রং: নির্বাচন সাদাকালো, গণভোট গোলাপি
সিইসি জানান—
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট হবে সাদাকালো।
- গণভোটের জন্য ব্যালটের রং হবে গোলাপি।
দুটি পৃথক ব্যালট ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়ানো এবং ফলাফল গণনা সহজ করা।
ভাষণ রেকর্ড ও প্রচার
সিইসির ভাষণটি রেকর্ড করা হয়
- ১০ ডিসেম্বর বিকেলে
- রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি এবং
- বাংলাদেশ বেতারে
পরদিন, অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর, ভাষণটি প্রচার করা হয়।
গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে বড় পরিবর্তন আসে।
এরপর ৮ আগস্ট থেকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
২০২৫ সালে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন—
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে।
পরে “জুলাই সনদ” বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয় এবং ১৩ নভেম্বর জানানো হয় যে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন করা হবে।
কেন একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী—
- প্রশাসনিক ব্যয় কমানো
- ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
- রাজনৈতিক রূপান্তরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
- জুলাই সনদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন
—এসব কারণে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
একই দিনে দুটি বড় জাতীয় ভোট আয়োজন একটি “প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ”, তবে সঠিক প্রস্তুতি থাকলে তা সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
সামনে কী?
নির্বাচন কমিশন শিগগিরই—
- তফসিল ঘোষণা
- মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সূচি
- নির্বাচনী আচরণবিধি
- ভোটকেন্দ্রের তালিকা
- গণভোট প্রশ্নপত্রের চূড়ান্ত সংস্করণ
ঘোষণা করবে।
রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে, এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন জোট ও কৌশলের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।
