ইনকিলাব মঞ্চের সভাপতি ওসমান হাদী বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ। সহযোগী রহিম পাটোয়ারীর অভিযোগ: হামলাকারী মির্জা আব্বাস ও বিএনপির সন্ত্রাসী। নির্বাচন বানচাল ও জুলাই সন্ত্রাসীদের বলির ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা।
ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর: রাজধানী ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সভাপতি ওসমান হাদী। আজ বেলা ৩:৩০ মিনিটে ঢাকা-৮ আসনে প্রচারণার সময় দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে দলের সহযোগী রহিম পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সহযোগী রহিম পাটোয়ারীর সরাসরি অভিযোগ
ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাঁর সহযোগী রহিম পাটোয়ারী এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে এবং নিজ স্বীকারোক্তিতে তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন,
ওসমান হাদী ওপর গুলিবর্ষণকারী হলো বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী।
মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী।
ইউনুস সরকারের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা
ওসমান হাদী’কে গুলি করার এই ঘটনাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা কোনো সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন না।
অনেকেই এর পেছনে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ দেখছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বন্ধ করা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আক্রমণের মাধ্যমে ‘জুলাই সন্ত্রাসীদের’ বলির পরিকল্পনা করা হতে পারে।
তারই প্রথম শিকার হলেন ওসমান হাদী।
- নির্বাচন বাঞ্চালের কৌশল: ধারণা করা হচ্ছে, এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড (যার পেছনে জামাত-শিবির সহায়তা করছে বলে অভিযোগ) ঘটানোর মাধ্যমে ২/৪ জন শীর্ষ জুলাই সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হতে পারে। এরপর জুলাই আন্দোলনকারীদের ব্যবহার করে আরেকটি আন্দোলন চাঙ্গা করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হবে, দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই দেখিয়ে নির্বাচন বাঞ্চাল করা।
- রাজনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ: এই হত্যাকাণ্ডের দায় প্রথমিকভাবে বিএনপির উপর চাপিয়ে দিয়ে বিএনপিকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত করা হতে পারে। একই সাথে আরেকটি গ্রুপ আওয়ামী লীগের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারে, যাতে আওয়ামী লীগও আর রাস্তায় নামতে না পারে।
জামাত-শিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ উঠেছে, এই পিচাশ ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইন বাস্তবায়নে জামাত-শিবির সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।
ওসমান হাদী’কে গুলি করে জামাত-শিবির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করল।
এই ঘটনার ফলে ঢাকা-৮ আসনসহ পুরো নির্বাচনী এলাকার পরিবেশ চরমভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোনো সংবাদমাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি,
তবে রাজনৈতিক সহিংসতার এই ঘটনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
