বিএনপির সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেন।
সাক্ষাৎকালে জামায়াত আমিরের উপস্থিতিতে আক্তারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীর নীতি ও আদর্শ, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলটির অবস্থানের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বক্তব্য ও অঙ্গীকার
যোগদানের সময় মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বলেন, তিনি ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ, দেশের স্বার্থ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের বাকি সময় অতিবাহিত করতে চান। একইসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নিয়ম-নীতি, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক আনুগত্য মেনে চলার অঙ্গীকার করেন।
পরে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাকে আলিঙ্গন করেন এবং তার দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করেন।
রাজনৈতিক অতীত: বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য
মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী) আসন থেকে। পরে আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের কাছে পরাজিত হন।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের জামায়াতে যোগদানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশ এই ঘটনাকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বড় মোড় হিসেবে দেখছেন।
বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার অতীত ভূমিকার সঙ্গে বর্তমান সিদ্ধান্তের সাংঘর্ষিকতা তুলে ধরে অনেকেই হতাশা ও নিন্দা প্রকাশ করছেন।
সমালোচকদের মতে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জামায়াতে যোগদান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে অন্যদিকে জামায়াতপন্থী ও সমর্থক মহল এটিকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে এবং তার অধিকার বলে মন্তব্য করছে।
উপসংহার
বিএনপির সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের জামায়াতে যোগদান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
একে কেউ দেখছেন আদর্শিক অবস্থান পরিবর্তন হিসেবে, কেউ আবার রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে।
এই সিদ্ধান্ত তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় কী প্রভাব ফেলবে—তা সময়ই বলে দেবে।
