নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সহিংসতা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব।
নির্বাচনী সহিংসতা ‘সাধারণ আইনশৃঙ্খলা সমস্যা নয়’ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর দেশে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তা কোনো সাধারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অস্তিত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংস হুমকি।
শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ পরিকল্পিত
রব বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণ এবং পরিকল্পিতভাবে গণপরিবহনে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা কাপুরুষোচিত ও সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতা। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি গভীর রাজনৈতিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, “এই সহিংসতা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর নির্লজ্জ হামলা।”
অভ্যুত্থানকারী শক্তির বিভাজন দায়ী
সংবাদমাধ্যমে পাঠানো জেএসডির রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো তথাকথিত ‘অভ্যুত্থানকারী শক্তি’র ভেতরকার অনৈক্য, স্বার্থকেন্দ্রিক বিভাজন এবং লক্ষ্যহীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড।
রব বলেন, “সবকিছু ‘অদৃশ্য বা তৃতীয় পক্ষের উসকানি’ বলে ব্যাখ্যা করলে বাস্তবতা আড়াল করা হবে।
সত্য হলো—অভ্যুত্থানকারী নেতৃত্বের দায়িত্বহীনতা ও কৌশলগত সংঘাতই এই সহিংস পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।”
নাগরিক আস্থার ভিত্তি ভেঙে পড়ছে
রব আরও বলেন, এই রাজনৈতিক বিভাজনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—এটি নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক আস্থাকে ধ্বংস করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো যখন সাংবিধানিক প্রতিপক্ষ না হয়ে একে অপরকে ‘বিলুপ্ত করার শত্রু’ হিসেবে দেখতে শুরু করে,
তখন রাষ্ট্র তার নৈতিক ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য হারায়।”
এর ফল হিসেবে সহিংসতা রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয় এবং গণতন্ত্র হয়ে ওঠে ভয়, রক্তপাত ও অন্তঃসারশূন্য আনুষ্ঠানিকতা।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র
জেএসডি সভাপতি বলেন, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা কেবল কোনো ব্যক্তি, দল বা নির্দিষ্ট নির্বাচনের বিরুদ্ধে নয়;
এটি সরাসরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পবিত্রতা, সামাজিক সংহতি এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক হুমকি।
তার মতে, রাজনৈতিক বিভাজন এখন এমন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে মতের পার্থক্য আর গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই;
বরং তা রূপ নিয়েছে সংঘাত ও রাষ্ট্রীয় ভয়ের সংস্কৃতিতে।
গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার সতর্কবার্তা
আ স ম রব বলেন,
“এই বিভাজন যদি এখনই কঠোরভাবে মোকাবিলা না করা যায় এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় অভ্যুত্থানের অংশীজন ও পেশাজীবী সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করা হয়, তবে এর পরিণতি হবে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাংবিধানিক দায়িত্বশীলতায় দ্রুত ফিরে না এলে রাষ্ট্র অনিবার্যভাবে এক ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
সভায় উপস্থিত নেতারা
সভায় বক্তব্য রাখেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, স্থায়ী কমিটির সদস্য তানিয়া রব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজ মিয়া,
অ্যাডভোকেট কেএম জাবির, মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
