শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বললেন সিইসি। তবে এমন ঘটনায় নির্বাচন কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনাকে “বিচ্ছিন্ন” বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে নির্বাচন সামনে রেখে এমন সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—এসব কি সত্যিই বিচ্ছিন্ন, নাকি নির্বাচনী বাস্তবতার অংশ?
সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ইয়ুথ ভোটার অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিইসি বলেন,
“ওসমান হাদির ওপর হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। মাঝে মধ্যে দু-একটা খুনখারাবি হয়। নির্বাচনে এসবের কোনো প্রভাব পড়বে না।”
সিইসির বক্তব্য: নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কারণ নেই
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
“নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। ইসি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সবাইকে নিয়ে নির্বাচনে যাবে ইসি। দুশ্চিন্তা করা যাবে না,”—বলেন তিনি।
তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুত রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’—কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক কর্মীর ওপর গুলির ঘটনা নিছক বিচ্ছিন্ন বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কম। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সহিংসতার মাত্রা বাড়ে এবং এসব ঘটনা ভোটারদের অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সিইসির বক্তব্যের বিপরীতে প্রশ্ন উঠছে—
➡️ এ ধরনের নির্বাচনে আর কত ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ ঘটবে?
➡️ ভোটের মাঠ কি সত্যিই সবার জন্য সমান নিরাপদ?
➡️ ভোটাররা কি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন?
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিইসির আশাবাদ
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৪ সালের তুলনায় অনেক ভালো।
“তখন মানুষ ঘুমাতে পারত না। এখন মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে,”—মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ও তৎপরতার কারণে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা নেই।
তরুণদের ওপর ভরসা নির্বাচন কমিশনের
ইয়ুথ ভোটার অনুষ্ঠানে তরুণদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন সিইসি। তিনি বলেন,
“নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নির্ভর করছে তারুণ্যের শক্তির ওপর।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে তরুণরাই নেতৃত্ব দিয়েছে।
এই নির্বাচনেও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পোস্টাল ভোটিং ও গণভোট: সাহসী উদ্যোগ
সিইসি জানান, এবারের নির্বাচন ঐতিহাসিক হতে যাচ্ছে।
“এই নির্বাচন ঐতিহাসিক নির্বাচন। কেননা পোস্টাল ভোটিং হচ্ছে। এবার গণভোটও হবে,”—বলেন তিনি।
তার মতে, ইসির এসব সাহসী পদক্ষেপের সঙ্গে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।
শেষ কথা: বিচ্ছিন্ন নাকি ধারাবাহিক?
হাদির ওপর গুলির ঘটনা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না—এমন আশ্বাস দিলেও বাস্তবতা হলো, প্রতিটি সহিংস ঘটনা ভোটারদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির পাশাপাশি মাঠের বাস্তব নিরাপত্তাই নির্ধারণ করবে—এ ঘটনা সত্যিই বিচ্ছিন্ন, নাকি আরও ঘটনার পূর্বাভাস।
