আলোচিত মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৯০ দিনের আটকাদেশে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে পাঠিয়েছে সরকার।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচিত মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিন মাসের আটকাদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুরোধের ভিত্তিতে নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা ৯০ দিনের নির্বাহী আটকাদেশ অনুযায়ী তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ পাঠানো হয়েছে।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশ
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, এটি সরকারের নির্বাহী আদেশ।
তার ভাষায়, “বিশেষ ক্ষমতা আইনে সরকারের এখতিয়ার রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন মনে করে কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ড সমাজ বা দেশের জন্য বিপজ্জনক, তখন সরকার চাইলে তাকে আটক করতে পারে। এটি আদালতের বিষয় নয়।”
পুলিশের এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনের প্রয়োগ ও নির্বাহী ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুসারীদের দাবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার রাত থেকেই বিক্রমপুরীর গ্রেপ্তারের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তার ভক্ত ও অনুসারীরা দাবি করেন, ভৈরব থেকে ঢাকায় বাসে করে আসার পথে বাস থামিয়ে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়।
যদিও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট মামলা রয়েছে কি না, কিংবা ঠিক কোন অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে—
সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উগ্র বক্তব্য ও অতীত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ
ফ্যাক্টচেকার ও সাংবাদিক কদরউদ্দিন শিশিরের ফেসবুক পোস্টের বরাতে গত ৭ মার্চ দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়,
বিক্রমপুরী তার ওয়াজ, অনলাইন বয়ান ও ফেসবুকে ‘অতি উগ্র কথাবার্তা’ প্রচারের জন্য পরিচিত।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়,
২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম আলোর সামনে হওয়া বিক্ষোভে তিনি নেতৃত্ব দেন এবং সেখান থেকে আটক কয়েকজনকে থানায় গিয়ে জোর করে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনাতেও তার ভূমিকা ছিল।
এ ছাড়া ২০২১ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও ওই প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হয়।
গণমাধ্যমে হামলা ও সংগঠনের ভূমিকা
গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রমপুরীর নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই হামলার পক্ষে কিছু পোস্টও দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে তিনি ‘বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলন’-এর একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক।
তার গ্রেপ্তারের পর সংগঠনটির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, নিরীহ মানুষের গ্রেপ্তার নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন এবং বিক্রমপুরীর বিরুদ্ধে প্রথম আলোর সামনে ভাঙচুরের কোনো ভিডিও ফুটেজ আছে কি না—সে প্রশ্ন তোলা হয়।
উপসংহার
মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর গ্রেপ্তার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশ ঘিরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনি অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
একদিকে সরকার বলছে, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত; অন্যদিকে তার অনুসারীরা গ্রেপ্তারের পদ্ধতি ও অভিযোগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
আগামী দিনে তদন্ত ও সরকারি ব্যাখ্যার ওপরই নির্ভর করবে এই ঘটনার পরবর্তী গতিপথ।
