দলীয় ভেদাভেদ ভুলে মাঠে নামার আহ্বান শেখ হাসিনার। অর্থনীতি, নির্বাচন, দমন-পীড়ন ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কড়া বক্তব্য।
বিস্তারিত রিপোর্ট
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক ভাষণে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী দল নয় এবং জনগণের সঙ্গে থাকা একটি দলকে কখনো নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়।
ঐক্যের আহ্বান ও রাজনৈতিক অবস্থান
শেখ হাসিনা বলেন, যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন, তারা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। “এই দল জনগণের দল। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে ওঠা দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না,”—বলেন তিনি। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় সময়ে ঐক্যই একমাত্র শক্তি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তার শাসনামলে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমানে ছয় কোটির বেশি মানুষ আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, “দারিদ্র্য না থাকলে সুদের ব্যবসাও টিকবে না—এটাই বাস্তবতা।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও কারাগারের চিত্র
দলের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাবেক এমপি গোলাপসহ তৃণমূল পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মী বর্তমানে কারাগারে বন্দি।
ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে আটক করে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার দাবি, কারাগারে বন্দিদের পর্যাপ্ত খাবার, সুপেয় পানি ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে না। এই অবস্থাকে তিনি “অমানবিক” বলে আখ্যা দেন।
‘জয় বাংলা’ স্লোগান ও মানবাধিকার প্রশ্ন
তিনি অভিযোগ করেন, আজ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অপরাধে শিশুদের ওপরও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
যারা এসব করছে, তাদের ছবি ও প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে—কারণ একদিন এর বিচার হবেই।
নির্বাচন ও ভোটাধিকার প্রসঙ্গ
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রস্তুতির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটারকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কার ভোটে তারা ক্ষমতায় যেতে চায়?”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৩ বার নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৯ বার সরকার গঠন করেছে।
উন্নয়ন ও গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শাসনামলের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,
ওই সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পায় এবং দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশে নেমে আসে।
তার বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোথায় আমি গণহত্যা করেছি?
৭.৬২ বুলেট কোথা থেকে এলো? কে অস্ত্র সরবরাহ করলো?”
বক্তব্যের শেষাংশে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করাই একটি মহলের লক্ষ্য। তবে তারা ভুলে যাচ্ছে—আওয়ামী লীগ জনগণের দল।
তিনি নেতা-কর্মীদের যার যা সামর্থ্য আছে তা নিয়ে মাঠে নেমে স্বাধীনতার চেতনা ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
