ভোট কারচুপির ভয়াবহ অভিযোগ তুলে আমীর খসরু বলেন, ব্যালট ছাপানো, বোরকা বানানো ও এনআইডি-বিকাশ নম্বর সংগ্রহের মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিতের চেষ্টা চলছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ডাকাতির সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র চলছে—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি দাবি করেছেন, একটি মহল ব্যালট ছাপানো থেকে শুরু করে বোরকা তৈরি, জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ এবং বিকাশ নম্বর নেওয়ার মাধ্যমে ভোট ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
“ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে”—ভয়াবহ অভিযোগ
আমীর খসরু বলেন,
“পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে, এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করছে, বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য মোবাইল নম্বর নিচ্ছে।”
তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য একটি পরিকল্পিত অপারেশন চলছে। তবে জনগণ এসব ফাঁদে পা দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, নির্বাচন ঝুঁকিতে
সংবাদ সম্মেলনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে “চরমভাবে অবনতিশীল” বলে উল্লেখ করেন আমীর খসরু। তিনি বলেন,
“আইনশৃঙ্খলার অবস্থা এতটাই খারাপ যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”
তিনি বলেন, পুলিশ ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
“তারা নির্বাচনই চায়নি”—তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও আমীর খসরু বলেন,
“যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাস করে না, তারাই পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা নির্বাচনই চায়নি।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ এসব কৌশল প্রত্যাখ্যান করবে এবং ব্যালটের মাধ্যমেই জবাব দেবে।
কোয়ালিশন সরকার প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান
বিএনপি সরকার গঠন করলে জাতীয় সরকার বা কোয়ালিশন হবে কি না—এমন প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন,
“বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে যদি অন্য দলের নীতি ও কর্মসূচির মিল থাকে
এবং প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে আলোচনার ভিত্তিতে কোয়ালিশনের কথা ভাবা হতে পারে। তবে সম্ভাবনা খুবই কম।”
চট্টগ্রাম নিয়ে বড় পরিকল্পনার ঘোষণা
বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে কেবল বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার কথাও বলেন।
বন্দর-পতেঙ্গায় ১১ দফা প্রতিশ্রুতি
আমীর খসরু তার নির্বাচনী এলাকার জন্য যে ১১টি প্রতিশ্রুতি দেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- ১২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল
- ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ
- চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা
- জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ
- দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসন
- ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
- টেকসই সড়ক ও বন্দর আধুনিকায়ন
- নাগরিক সেবায় সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা
- আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, ইসরাফিল খসরু, সাইফুল আলম, কামরুল ইসলাম সাজ্জাদসহ শীর্ষ স্থানীয় নেতারা।
