দুর্নীতির অভিযোগে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে অপসারণ করেছে সরকার। নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সুরাইয়া আক্তার জাহান।
দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহান। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশনে হঠাৎ এই প্রশাসনিক পরিবর্তন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, জনস্বার্থ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব ও ক্ষমতা
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সুরাইয়া আক্তার জাহান তার বর্তমান পদের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ডিএনসিসির মেয়রের ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
তবে তিনি কেবল বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ‘দায়িত্ব ভাতা’ পাবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়,
ডিএনসিসির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও নাগরিক সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন অপসারণ করা হলো মোহাম্মদ এজাজকে
গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজকে ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মোহাম্মদ এজাজের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
দুদকের চলমান তদন্ত ও আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই কয়েকদিনের ব্যবধানে তাকে প্রশাসকের পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
দুদকের তদন্ত ও আইনি প্রেক্ষাপট
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আইন বিশ্লেষকদের মতে,
কোনো প্রশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি হলে তাকে পদে বহাল রাখা প্রশাসনিক ও নৈতিক—উভয় বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য নয়।
ডিএনসিসির ওপর প্রভাব
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন রাজধানীর একটি বৃহৎ অংশের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে থাকে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়নসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ডিএনসিসির আওতায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসক পরিবর্তনের ফলে সাময়িকভাবে কিছু প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের অপসারণ সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন প্রশাসক সুরাইয়া আক্তার জাহানের নেতৃত্বে ডিএনসিসি কতটা কার্যকরভাবে নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারে, সেদিকেই এখন নগরবাসীর দৃষ্টি।
