ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির ২০৯ ও জামায়াতের ৬৮ এমপি শপথ নিয়েছেন। জাতীয় সংসদ ভবনে সিইসি শপথ পড়ান, ছিল কঠোর নিরাপত্তা।
শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত ২০৯ এমপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবন-এর শপথ কক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
রেওয়াজ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে প্রথমে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। পরে অন্যান্য দলের নির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।
কঠোর নিরাপত্তায় শপথ অনুষ্ঠান

শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিদেরই অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সে প্রেক্ষাপটে শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে জনমনে ছিল বাড়তি আগ্রহ।
নির্বাচনের ফলাফল ও আসন বণ্টন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে মোট ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন। তাদের জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি আসনে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়লাভ করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সূত্র মতে, চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরই শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও পরবর্তী ধাপ
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ শুরু হয়। শপথের পরপরই সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের
প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সেই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সংসদীয় কমিটি গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা, সংসদীয় বিতর্ক নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিএনপির শীর্ষ নেতারা শপথ গ্রহণকে “গণরায়ের প্রতিফলন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে
নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেছে। তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
