শপথের পর রুমিন ফারহানা বললেন, ৩০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব নেই সংসদে। আওয়ামী লীগ ও বাম দল অনুপস্থিতি নিয়ে তার বিশ্লেষণ।
৩০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বহীন সংসদ: রুমিন
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সংসদের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, এবারের সংসদে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকবে না—এ বিষয়টি মাথায় রেখেই সংসদে বসতে হবে।
মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রশ্নটি ছিল—সংসদে এবার শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেই, বিষয়টিকে তিনি কীভাবে দেখছেন?
রুমিন ফারহানা সরাসরি জবাবে বলেন, “আগে সংসদে বিএনপি ছিল না, এখন আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলো নেই। ফলে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের রিপ্রেজেন্টেশন থাকবে না।”
শপথ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন রুমিন ফারহানা। উল্লেখ্য, তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
একসময় জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র অনুপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা ছিল। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন—সংসদে নেই আওয়ামী লীগ এবং কয়েকটি বামপন্থী দল। ফলে বড় একটি ভোটব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি কার্যকর সংসদের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের শক্তিশালী উপস্থিতি জরুরি।
সংসদে বহুমতের প্রতিফলন না থাকলে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া একপাক্ষিক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৩০ শতাংশ প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গ
রুমিন ফারহানার ‘৩০ শতাংশ’ মন্তব্যটি মূলত ভোটের হিসাব ও রাজনৈতিক সমর্থনভিত্তিক বাস্তবতাকে ইঙ্গিত করে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা বা প্রতিনিধিত্ব না পাওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ভোটারদের মিলিয়ে তিনি এই পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব হবে এই প্রতিনিধিত্বহীন জনগোষ্ঠীর কথাও বিবেচনায় রাখা।
“সংসদে বসতে হবে এ বিষয়টি মাথায় রেখেই”—বলেন তিনি।
গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো অন্তর্ভুক্তি। সংসদে সব মত ও পথের প্রতিনিধিত্ব না থাকলে রাজনৈতিক বৈধতা
ও জনআস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বড় কোনো রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে প্রধান বিরোধী দলের বর্জন বা অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটেছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষের বড় অংশের অনুপস্থিতি একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।
সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজনৈতিক আস্থার সংকট দূর করা এবং জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা।
বিরোধী মতের প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব হবে সকল নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করা।
রুমিন ফারহানার মন্তব্য সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে—সংসদে অনুপস্থিত রাজনৈতিক শক্তির সমর্থকদের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
