তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে বিলাল এরদোয়ান ও মেসুত ওজিল এখন ঢাকায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনসহ থাকছে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ঢাকা সফরে এসেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে ও দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বিলাল এরদোয়ান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি ব্যক্তিগত বিমানে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তার এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিশ্বখ্যাত জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল এবং তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (TIKA) সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিলাল এরদোয়ানের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে তুর্কি বিনিয়োগ এবং বিশেষ করে নতুন সরকারের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান সরকার গঠনের পরপরই তুর্কি প্রেসিডেন্টের ছেলের এই সফর বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের প্রতি আঙ্কারার জোরালো সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধন
সফরসূচির প্রথম দিনেই বিলাল এরদোয়ান ও মেসুত ওজিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) পরিদর্শন করেন।
সেখানে তারা তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার (TIKA) অর্থায়নে সংস্কারকৃত ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার’-এর উদ্বোধন করেন।
ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিলাল এরদোয়ান বলেন,
“বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, এটি আত্মার বন্ধন। আমরা বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে পাশে থাকতে চাই।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সফর
সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি বিলাল এরদোয়ান ও মেসুত ওজিল কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়েছেন।
সেখানে তারা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সাথে বৈঠক করবেন এবং তুরস্ক সরকারের পরিচালিত ফিল্ড হাসপাতাল ও শিক্ষা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করবেন।
এছাড়া আজ ক্যাম্প-৪-এ আয়োজিত ‘৩য় রোহিঙ্গা ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ওজিল ও বিলাল এরদোয়ানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আজ রমজান মাসের প্রথম দিন হওয়ায় তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
ভূ-রাজনীতি ও ‘ইসলামী ব্রাদারহুড’ বিতর্ক
বিলাল এরদোয়ানের এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেকের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সাথে তুরস্কের ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক থাকায় এই সফরকে ‘ইসলামী ব্রাদারহুড’ রাজনীতির প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। আনন্দবাজার পত্রিকা সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই সফরকে ‘গোপন ও রহস্যময়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, ৫ই আগস্টের রেজিম পরিবর্তনে তুরস্কের পরোক্ষ ভূমিকার গুঞ্জনকে এই সফর আরও উস্কে দিয়েছে।
উপসংহার
বিলাল এরদোয়ানের এই সফর কেবল মানবিক সহায়তা নয়, বরং বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে আঙ্কারার সংহতি প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
