সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ। সরকারের তিন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধানেরা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পোস্টে সাক্ষাতের একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানদের একসঙ্গে দেখা যায়।
দ্বিতীয় কার্যদিবসে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী
নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় কার্যদিবসে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে গত মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি।
সচিবালয়ে বুধবার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রথম বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে সরকারের প্রাথমিক তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।
তিন বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতি
সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন—
- সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
- নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান
- বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন
সাক্ষাতে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে বাহিনীগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও সৌজন্য সাক্ষাৎকে নতুন সরকারের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের তিন অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বৈঠকে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে—
১. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা
সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার ও বাজার তদারকি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় জোরদার করা হবে।
৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা
শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পরপরই তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ধারাবাহিকতা ও সমন্বয়ের বার্তা দেয়
এটি প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের ইঙ্গিত বহন করে।
ক্ষমতাসীন দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে তার অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে।
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে
বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের ঘোষিত তিন অগ্রাধিকার—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা—
বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
