অবশেষে শেষ হলো ড. ইউনূসের শাসনামল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পরপরই ইউনূসের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
ড. ইউনূসের শাসনামল
একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের অভিপ্রায় অনুযায়ী শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতি বরণ করে নেয়। ড. ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। সারা বিশ্বে তার পরিচিতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি যান, বক্তৃতা করেন। তাই তার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগে জাতি উল্লসিত হয়। বাংলাদেশ এরকম একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সরকার প্রধান হিসেবে পেয়ে আশায় বুক বাঁধে। আমরা আশা করেছিলাম ড. ইউনূসের ছোঁয়ায় বাংলাদেশ বদলে যাবে। নতুন বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তরতর করে এগিয়ে যাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে।
বৈষম্যমুক্ত দেশ হবে, দুর্নীতি বন্ধ হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।নারীরা মর্যাদা পাবে। শিক্ষাঙ্গনে মেধার প্রতিযোগিতা হবে।
নতুন বাংলাদেশে সবাই মন খুলে কথা বলবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। সবাই মিলে আমরা এক মানবিক দেশ গড়ে তুলব।
এই স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম ড. ইউনূসকে দেখে। শুধু আমরা স্বপ্ন দেখিনি ড. ইউনূস এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ড. ইউনূসে আশা ভঙ্গ
ড. ইউনূস নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ বক্তা। কথার মায়াজালে তিনি এ দেশের মানুষকে সম্মোহিত করেছিলেন।
কিন্তু ১৮ মাস পর, যদি আমরা হিসেবের খাতা খুলে দেখি, তাহলে দেখব জমার খাতা শূন্য।
ইউনূসের শাসনকাল হতাশার বেদনার, দুঃস্বপ্নের কালো অধ্যায়।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণ যেন কারাগার থেকে মুক্তি পেল।
এই শাসনকাল দেশের মানুষ মনে রাখবে উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের সময় হিসেবে। এক অবর্ণনীয় কষ্ট, দুঃখের স্মৃতি হিসেবে।
১৮ মাসে ড. ইউনূস বাংলাদেশকে কী দিলেন?
ইউনূস বাংলাদেশে মব সন্ত্রাসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন।
গত দেড় বছরে এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, ক্ষমতার জোরে অন্যের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করা যায়। বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী মব বাহিনী উপহার দিয়েছেন।
যারা আইনের ঊর্ধ্বে, বিচারের বাইরে, তারা যা বলবে সবাই তা মানতে বাধ্য। এরা যদি বলে পরীক্ষা হবে না, তাহলে পরীক্ষা বন্ধ করতেই হবে।
এরা যদি বলে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হবে, তাকে গ্রেপ্তার না করলে পুলিশের চাকরি যাবে।
এরা যদি বলে কাউকে জেল থেকে মুক্তি দিতে হবে, তাহলে আইন-কানুন যাই থাকুক, তাদের ছেড়ে দিতেই হবে, নইলে দেশে তুলকালাম হবে।
এদের কথাই আইন। এরাই দেশের মালিক। জনগণ ক্রীতদাস।
ইউনূস বলেছিলেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করবেন
বিদেশ থেকে নিজের লোকদের উড়িয়ে এনে বসিয়েছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে।
স্যুট-টাই পরা এসব প্রবাসীরা বিদেশি পাসপোর্ট নিয়ে দেশে এসে হৈচৈ করলেন। বাংলাদেশ নাকি সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।
আমরা সাধারণ মানুষরা তো আনন্দে আত্মহারা। কিন্তু ওমা, একি—কদিন পর আমরা দেখলাম বাংলাদেশ এখন উত্তর কোরিয়ারও নিচে।
পরে জানা গেল, সবাই বিদেশি দালাল, বিদেশি নানা কম্পানির এজেন্ট। এরা এসে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু বিক্রি করার তোড়জোড় শুরু করল।
ড. ইউনূস বললেন, এভাবেই তো দেশ এগুবে। নানা কেনাকাটার ধুম পড়ল। কিন্তু কোনোটাই দেশের মানুষের স্বার্থে নয়।
তিনি দেখলেন, বেসরকারি খাতকে যদি ধ্বংস না করা যায় তাহলে বিদেশি কম্পানির কাছে গ্যাস, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ইত্যাদি বিক্রি হবে কিভাবে।
বেসরকারি খাতের কোমর ভাঙার কাজ শুরু করলেন। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক হত্যা মামলা দায়ের করা শুরু হলো।
মব বাহিনী শিল্পকারখানায় নির্বিচারে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করতে লাগল
ব্যবসায়ীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে হয়রানি করা হলো। শিল্পকারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো।
বেসরকারি উদ্যোক্তারা হতাশায় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকাই নিরাপদ মনে করলো।
বন্ধ হলো বহু কারখানা, নতুন বেকার হলো দেড় কোটি মানুষ।
দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেল আরো দুই কোটি মানুষ। দেশের অর্থনীতি ফোকলা করে ফেলেছেন।
দেড় কোটি বেকার আর দুই কোটি চরম দরিদ্র মানুষ সৃষ্টি করেছেন
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটাই তার জাতিকে উপহার। ড. ইউনূস ১৮ মাসে দেশের শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছেন, দেশের শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই।
কথায় কথায় মারামারি, ক্লাস বন্ধ, অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করছে।
এসব নিয়ে ড. ইউনুসের না ছিল উদ্বেগ, না ছিল শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান।
প্রতিটি ভাষণে শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বরং তিনি এসব প্রশ্রয় দিয়েছেন। গত ১৮ মাসে গণমাধ্যমে এক আতঙ্ক পরিবেশ বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলা
মবের শিকার হয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে বহু সাংবাদিককে।
শুধু মাত্র সরকারের সমালোচনা করার কারণে আনিস আলমগীরসহ অনেকেই কারাগারে। ভিন্নমতের ওপর প্রকাশ্যে আক্রমণের ঘটনায় সরকার ছিল নীরব। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ছিল হতাশার চিত্র।
রাজনীতির বিষবাষ্প থেকে খেলাধুলা মুক্ত রাখতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের ক্রিকেটে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে
১৮ মাসে বিশ্বের দরজা বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের জন্য বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে।
এসব ঘটনায় কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো তিনি দেশের মানুষকে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিদেশিদের সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী প্রকাশ্য-গোপন চুক্তি করেছেন।
এই ফিরিস্তি অনেক লম্বা। এককথায় ড. ইউনূস তার শাসনামলে বাংলাদেশকে একটি আমানবিক ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন।
এ তো গেল ১৮ মাসে বাংলাদেশ ড. ইউনূসের কাছ থেকে কী পেল তার হিসাব। এবার দেখা যাক, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কী নিলেন?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন
স্বল্পতম সময়ে একডজন দেশ সফরের অনন্য রেকর্ড করেছেন ড. ইউনূস। কিন্তু এসব বিদেশ সফর যতটা না ছিল দেশের জন্য তার চেয়ে বেশি নিজের জন্য।
এসব সফরের একটিও কোনো দেশের আমন্ত্রণে সফর করেননি ইউনূস। সবগুলো সফরই মূলত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থারসম্মেলনে যোগদানের জন্য হয়েছে।
সুযোগ মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট, চীনের প্রেসিডেন্ট ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলেছেন।
ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই এইসব সফরে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট কিছুই অর্জনের সুযোগ থাকে না।
প্রকৃতপক্ষে এইসব সফরে স্বল্পমেয়াদি প্রচারণা ও ব্যক্তিগত ইমেজ নির্মাণ ছাড়া দেশের জন্য বাস্তবিক অর্জন প্রায় শূন্য।
এসব সফর অধিকাংশ ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি করা, তাদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং নিজের ব্যক্তিগত প্রচারণা ও ব্র্যান্ডকে বৈশ্বিকভাবে আরো শক্তিশালী করার জন্য হয়েছে বলেই দৃশ্যমান হয়।
ইউনূসের বিদেশ সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে তার ‘থ্রি জিরো’ (Three Zeroes) তত্ত্ব
ইউনূসের বিদেশ সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে তার ‘থ্রি জিরো’ (Three Zeroes) তত্ত্ব নিয়ে বক্তৃতা—যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
এসব সফরে ‘দর্শনীয়’ হিসেবে যুক্ত হয় নানা দপ্তরের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ, যার কোনো বাস্তব ফলাফল দৃশ্যমান হয়নি কখনোই।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ড. ইউনূস গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেতে শুরু করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশকিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
এরমধ্যে ঢাকায় ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে।
সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি।
এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ?
গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (RL No. 2806) পায় এবং এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ড. ইউনূস গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রভাইডার (পিএসপি) হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন পায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পিএসপি লাইসেন্স পায়।
২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।
বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অধ্যাদেশে শেয়ার হোল্ডারদের মালিকানা ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা
হয় বোর্ডে নির্বাচিত ৯ সদস্যের থেকে ৩ জন পরিচালক মনোনীত হবেন, যাদের মধ্য একজনকে বোর্ড চেয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এতে সরকারের চেয়ার নিয়োগের ভূমিকা বাতিল হয়।
প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার দুই মাস পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়।
গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই ইউনূস অর্থপাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাকে খালাস দেয়।
হিসাবের খাতা মেলাতে গিয়ে যেকেউ বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। ইউনূস ১৮ মাসে যা নিয়েছেন তার বিনিময়ে তিনি কি এদেশের মানুষকে একটি জিনিস দিতে পেরেছেন?
যার নাম-‘শান্তি’। যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন!
অদিতি করিম : লেখক ও নাট্যকার
