ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ ৬ সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ। সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন তারা।
ছয় সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রশাসক দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সংশোধিত সিটি করপোরেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন।
কারা পেলেন দায়িত্ব?
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী,
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুস সালাম।
- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে।
- খুলনা সিটি করপোরেশন-এ প্রশাসক হয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
- সিলেট সিটি করপোরেশন-এ দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এ প্রশাসক হয়েছেন মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।
- গাজীপুর সিটি করপোরেশন-এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. শওকত হোসেন সরকারকে।
এর ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনগুলো আপাতত নির্বাচিত মেয়রের পরিবর্তে প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।
আইনি ভিত্তি কী?
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১) অনুসারে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই অধ্যাদেশের উপধারা (৩) অনুযায়ী প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন করবেন।
জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
প্রশাসকদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের অধীনে থাকবে—
- নগর উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্প তদারকি
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
- জনস্বাস্থ্য ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি
- বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, তারা মেয়রের মতোই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তবে তাদের নিয়োগ প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে হওয়ায় মেয়াদ নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর।
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
সাধারণত সিটি করপোরেশন নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে—যেমন নির্বাচিত পরিষদ অনুপস্থিত থাকা বা আইনগত পরিবর্তন—সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসক নিয়োগের ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হতে পারে। তবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধির অনুপস্থিতি নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলতে পারে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা—যে-ই দায়িত্বে থাকুন না কেন, সেবার মান যেন অক্ষুণ্ন থাকে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসে।
