পটুয়াখালী জেলা কারাগারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম খানের মৃত্যু। পরিবার বলছে, তিনি কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না।
পটুয়াখালী কারাগারে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু
প্রতিনিধি, পটুয়াখালী | প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পটুয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দী অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম খান (৩৮)। তিনি দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত হাবিবুর রহমান খানের ছেলে। ২০১৮ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।
অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনা
জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শফিকুল ইসলাম। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিকেল ৫টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে বরিশাল–এ পৌঁছানোর আগেই পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পটুয়াখালী কারাগারের জেলার আব্দুর রব মিয়া বলেন, “বন্দীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পথে তাঁর মৃত্যু হয়।”
অন্যদিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন জানান, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পরিবারের অভিযোগ: এজাহারভুক্ত ছিলেন না
শফিকুল ইসলামের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, “যে তিনটি মামলায় আমার ভাইকে কারাগারে রাখা হয়েছিল, সেসব ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। একটি মামলায়ও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না।”
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে রাখা হয়েছিল, যা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গ্রেপ্তার ও মামলার পটভূমি
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের অংশ হিসেবে দুমকী থানা-পুলিশ শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের মামলায় তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর আরও একটি রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,
তিনি কোনো মামলাতেই এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না, তবে তদন্তের পর্যায়ে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন
একজন রাজনৈতিকভাবে পরিচিত সাবেক ছাত্রনেতার কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে।
এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাগুলোতে যথাযথ চিকিৎসা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
পটুয়াখালী জেলা কারাগারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম খানের মৃত্যু নতুন করে কারা ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার
এবং বন্দীদের চিকিৎসা–সুবিধা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরিবার যেখানে বিচার ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছে, সেখানে প্রশাসন বলছে—
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। এখন তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন।
