ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে।
ইরান-ইসরায়েল পাল্টা হামলায় যুদ্ধের শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে হামলার পর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করেছে ইরান। অপরদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজানো হয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
ইসরায়েলের দাবি: ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত, সাইরেন বাজানো
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইডিএফ আরও জানায়, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী আকাশে সক্রিয় রয়েছে এবং সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নির্ভুল নয়, তাই নাগরিকদের ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’-এর নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
তেহরানে হামলার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে তেহরানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। যদিও হামলার প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনার পরই ইরান ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই প্রভাবশালী দেশের সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে লেবানন, সিরিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
সম্ভাব্য পরিণতি: পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি?
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ছায়াযুদ্ধ চলমান। তবে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে জরুরি সতর্কতা জারি রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কূটনৈতিক সমাধান না
হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন এই সংঘাতের পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে।
