দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা পদত্যাগপত্র, নতুন পর্ষদ গঠনের অপেক্ষা।
দুদক চেয়ারম্যানসহ ২ কমিশনারের পদত্যাগ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (Anti-Corruption Commission) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ নিজ পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারী দুই কমিশনার হলেন—মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ।
কী বললেন কমিশনার?
পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বের হওয়ার সময় কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি পদত্যাগ করেছি। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছি। কোনো চাপের মুখে নয়, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই পদত্যাগ করেছি। নতুন পর্ষদ গঠিত হবে। তাদের জন্য শুভ কামনা।”
তার এই বক্তব্যে পদত্যাগের পেছনে বাহ্যিক চাপের গুঞ্জন নাকচ করা হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিয়োগের পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সময়ে কমিশনের দুই সদস্য হিসেবেও নিয়োগ পান মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ।
দুদক আইন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ রাষ্ট্রপতির আদেশে হয়ে থাকে এবং তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। তবে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সুযোগও আইনে রয়েছে।
হঠাৎ পদত্যাগে প্রশ্ন
তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে, তবু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। ফলে এর নেতৃত্বে হঠাৎ পরিবর্তন কমিশনের চলমান তদন্ত ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ
দুদকের সামনে বর্তমানে একাধিক উচ্চপ্রোফাইল মামলা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম রয়েছে।
নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে এসব তদন্তের গতি মন্থর হবে কি না—তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যথায় প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হতে পারে।
নতুন পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করবে দুদকের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা এবং জনআস্থার পুনর্গঠন।
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনারের পদত্যাগ দেশের প্রশাসনিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
যদিও পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তবু এর পেছনের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এখন নজর নতুন পর্ষদ গঠনের দিকে—দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে কমিশনের ভূমিকা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের সিদ্ধান্ত।
