রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, সংস্কার পরিষদের নয়—সংবিধান সংশোধন ছাড়া পরিষদ গঠন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে “সংস্কার পরিষদ” নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যে অধিবেশন আহ্বান করেছেন তা জাতীয় সংসদের, কোনো সংস্কার পরিষদের নয়।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণের আগে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদের অধিবেশনই আহ্বান করা হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র জাতীয় সংসদের অধিবেশনই আহ্বান করেছেন। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী সংসদই আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
তিনি বলেন,
“রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহ্বান করেছেন জাতীয় সংসদের। সংস্কার পরিষদের কোনো অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি। আমরা সাংবিধানিকভাবেই এখন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছি।”
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি Mohammed Shahabuddin সংবিধান অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন।
সংস্কার পরিষদের সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নে মামলা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় যে সংস্কার পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, তার সাংবিধানিক বৈধতা ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে বিচার বিভাগের বিবেচনায় রয়েছে এবং আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন। ফলে এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখন আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত Supreme Court of Bangladesh-এ বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংশোধন ছাড়া পরিষদ গঠন সম্ভব নয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী কোনো সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই।
যদি গণভোট বা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ ধরনের কোনো পরিষদ গঠন করতে হয়, তাহলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে।
তার ভাষায়,
“সংসদে আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধন হলে তবেই সেটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে। এরপর প্রয়োজন হলে পরিষদ গঠন ও শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসতে পারে।”
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা কেবল জাতীয় সংসদের হাতে রয়েছে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদত্যাগ নিয়ে ব্যাখ্যা
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদত্যাগের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন।
তিনি জানান, তারা সংসদের পদ থেকে নয়, কেবল দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার মতে, “স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার দল
থেকে পদত্যাগ করেননি। তারা শুধুমাত্র দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, কারণ তারা ওই পদে আর দায়িত্ব পালন করতে চান না।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিতর্ক এবং তার সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নে আদালতের শুনানি দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা ও সম্ভাব্য সংবিধান সংশোধন ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
