ইরানের আইআরজিসি বলেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে। একই সময়ে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার খবর পাওয়া গেছে।
নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি আইআরজিসির
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-কে খুঁজে বের করে হত্যার হুমকি দিয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রোববার (১৫ মার্চ) এই কঠোর বার্তা দেয় ইরানের বাহিনীটি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।
আইআরজিসির কড়া বার্তা
আইআরজিসির সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়,
“এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী যদি জীবিত থাকে, তবে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে বের করে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে। কারণ ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত Islamic Revolutionary Guard Corps দেশটির আঞ্চলিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রোববার ইরান থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রকে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে।
সংবাদমাধ্যম Ynet জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সেগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা Israel Home Front Command জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মধ্য ইসরায়েলে সাইরেন, লেবানন থেকেও হামলা
একই সময় মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ওই সময় লেবানন থেকে ছোড়া একটি প্রজেক্টাইল শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম Ynet জানায়, ওই প্রজেক্টাইলটিও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে Israel Home Front Command।
হামলার দায় স্বীকার হিজবুল্লাহর
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah জানিয়েছে, তারা সীমান্তবর্তী কফার ইউভাল এলাকার উত্তরে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে।
গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে, সীমান্তবর্তী একটি শহরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান, ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত
আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ সংঘর্ষ দীর্ঘদিন ধরেই চলমান।
তবে সাম্প্রতিক এই হুমকি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Agence France-Presse এবং Al Jazeera জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠছে।
