সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আহত ২৯ মার্কিন সেনা। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।
সৌদির মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ২৯ সেনা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান এর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরব-এ অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ২৯ জন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে একাধিক হামলার ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় ‘প্রিন্স সুলতান’ বিমান ঘাঁটি, যেখানে মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এতে অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এর আগে পৃথক আরেকটি হামলায় আরও ১৪ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছিলেন। এপি’র সূত্র মতে, হামলাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি মানববিহীন ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে, যা হামলার কৌশলগত দিকটি আরও জটিল করে তুলেছে।
অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলায় ঘাঁটির কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন লক্ষ্যভিত্তিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা একটি বড় ধরনের বার্তা বহন করে।
এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
দেশটির মাটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এমন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের পূর্বাভাস হতে পারে, যদি কূটনৈতিকভাবে দ্রুত সমাধান না আসে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, এপি
