ইরানের ‘আগুনের বৃষ্টি’ হুমকি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতে নতুন উত্তেজনা। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেল আবিব।
আগুনের বৃষ্টি’ হুমকি, দীর্ঘ যুদ্ধে প্রস্তুত ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরান ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণের হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করছে। এতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থলপথে হামলা চালায়, তাহলে ইরানি বাহিনী তাদের ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালাবে।
আলোচনার আড়ালে সামরিক প্রস্তুতির অভিযোগ
গালিবাফ অভিযোগ করেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে গোপনে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই মন্তব্যের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। এতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, “শত্রুরা আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে তারা যুদ্ধ বিস্তারের পরিকল্পনা করছে।”
‘আগুনের বৃষ্টি’ হুমকি
ইরানি স্পিকার আরও বলেন, মার্কিন বাহিনী যদি স্থলপথে প্রবেশ করে, তাহলে তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান শুধু নিজ ভূখণ্ডেই নয়, আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমেও পাল্টা আঘাত হানতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে সংঘাত দ্রুত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
স্থল অভিযান হলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কা
সিএনএনের কূটনৈতিক প্রতিবেদক ম্যাথিউ চ্যান্স সতর্ক করেছেন, প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী হলেও মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি স্থল অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তার মতে, এটি দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা শুধু ইরান নয়, পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
একইসঙ্গে বাব এল-মান্দেব জলপথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইসরায়েল
অন্যদিকে ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর নেতৃত্বে সামরিক বাজেট বাড়ানো হয়েছে।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের বিশ্লেষক মোহাম্মদ এলমাসরি জানিয়েছেন, ইসরায়েল প্রায় ২৭১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট নির্ধারণ করেছে, যা একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালানোর প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও কৌশল
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। যুদ্ধকালীন সময়ে এই সহায়তা আরও বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা ইসরায়েলকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে সক্ষম করে তুলছে।
আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই সংঘাত সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিনি অঞ্চল এবং ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এতে একটি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এলমাসরির ভাষায়, ইসরায়েল সম্ভবত একটি “ধারাবাহিক যুদ্ধ কৌশল” গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার।
