রাজশাহী মেডিকেলে হামের উপসর্গে ২৭০ শিশু ভর্তি, শনাক্ত ৩৫। চলতি বছরে ৩০ শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
রামেকে হামের উপসর্গে শিশু ভর্তি বাড়ছে, উদ্বেগ চিকিৎসকদের
রাজশাহী অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুল সংখ্যক শিশু ভর্তি রয়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতে চাপ বাড়াচ্ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. সাহিদা ইয়াসমিন এ তথ্য জানান।
২৭০ শিশু ভর্তি, শনাক্ত ৩৫
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মোট ২৭০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
ডা. সাহিদা ইয়াসমিন জানান, আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা কর্নার এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে দুইটি ওয়ার্ডে আইসোলেশন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
চলতি বছরে ৩০ শিশুর মৃত্যু
চলতি বছরে এই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এদের মধ্যে পরীক্ষায় মাত্র একজনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
বাকি ২৯ জনের ক্ষেত্রে হামের মতো উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষায় পজিটিভ পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে ৬ মাসের নিচের শিশুরা
চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ খুবই কম বয়সী। প্রায় ৬৫ শতাংশ শিশুর বয়স ৬ মাসের নিচে, যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
সাধারণত এই বয়সে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণ টিকাদান সম্পন্ন হয় না। ফলে তারা সহজেই সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে।
এক বছরের বেশি বয়সী আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের ওপর বাড়ছে চাপ
হাসপাতালের পরিচালক পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান, ১২০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ২৫০০ থেকে ৩৫০০ রোগী ভর্তি থাকছে।
এই অতিরিক্ত রোগীর চাপ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকরা
সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আইসোলেশন ইউনিট বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও প্রয়োজন।
প্রেক্ষাপট ও করণীয়
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টি
এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমাবদ্ধতা থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এটি বড় আকারের জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
