ফজলুর রহমানের অভিযোগ—শান্তি আলোচনার নামে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করছে, তীব্র সমালোচনা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় পাকিস্তান?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অনলাইন রিপোর্ট
পাকিস্তানের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান অভিযোগ করেছেন, শান্তি আলোচনার নামে পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-এর স্বার্থ রক্ষা করছে।
সোমবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
‘যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা ভণ্ডামি’
ফজলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করার যে উদ্যোগ পাকিস্তান নিয়েছে, তা মূলত একটি “ভণ্ডামি”।
তার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটকে সহায়তা করছে, অন্যদিকে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও পাকিস্তানের ভূমিকা
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাতের পর এখন ইরানে হামলা এবং লেবানন-এ আক্রমণ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য অস্থির হয়ে উঠেছে।
তার মতে, এই পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের উচিত ঐক্যবদ্ধ হওয়া, কিন্তু পাকিস্তানের বর্তমান সরকার উল্টোভাবে পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে সখ্য বজায় রাখছে।
‘সরকার যুক্তরাষ্ট্রের গোলাম’
ফজলুর রহমান পাকিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে “যুক্তরাষ্ট্রের গোলাম” বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, সরকারের নিজস্ব কোনো স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নেই এবং তারা ওয়াশিংটনের নির্দেশনা অনুসারেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী ও তেলবাহী জাহাজ বিতর্ক
সংবাদ সম্মেলনে তিনি হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত বিষয়ও তুলে ধরেন।
তার অভিযোগ, পাকিস্তানের পতাকাবাহী ১০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে বলে সরকার দাবি করছে।
কিন্তু এই জাহাজগুলো আদৌ করাচিতে পৌঁছেছে কি না, কিংবা সেগুলোর তেল খালাস হয়েছে কি না—তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি জাহাজগুলো সত্যিই আসে, তাহলে দেশে তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন কেন হলো?”
সেনাপ্রধানের সমালোচনা
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে ‘পুলসিরাত’-এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে ‘তামাশা’ ছাড়া কিছু নয়।
তার ভাষায়, “এগুলো কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য
ফজলুর রহমান দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নিজ দেশেই ইসরাইলপন্থী অবস্থানের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। অথচ পাকিস্তান সরকার এখনও সেই নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশ নিয়েও সমালোচনা
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আফগানিস্তান ও ভারত-এর সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা করেন। তার মতে, বর্তমান সরকারের “ভুল নীতি” আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।
বিক্ষোভের ঘোষণা
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১২ এপ্রিল দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন ফজলুর রহমান। তিনি জনগণকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বক্তব্য নাকি বাস্তবতা?
বিশ্লেষকদের মতে, ফজলুর রহমানের বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে।
তবে এতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি, মধ্যপ্রাচ্যে ভূমিকা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট—সবই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মাওলানা ফজলুর রহমানের অভিযোগ, শান্তি আলোচনার আড়ালে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করছে। তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
