ইরান যুদ্ধবিরতিকে ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ বললেন লাপিদ। নেতানিয়াহুর কূটনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে ইসরায়েলে তীব্র সমালোচনা।
যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলের জন্য ‘বিপর্যয়’: লাপিদের তীব্র সমালোচনা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি “রাজনৈতিক বিপর্যয়” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-কে ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় লাপিদ বলেন, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি হচ্ছে ইরান। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে ইসরায়েলকে আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে, যা কূটনৈতিকভাবে বড় ধরনের ব্যর্থতা।
আলোচনার বাইরে ইসরায়েল?
লাপিদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের অনুপস্থিতি দেশের নিরাপত্তা নীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন,
“ইসরায়েলের মতো একটি রাষ্ট্রকে এ ধরনের আলোচনার বাইরে রাখা অগ্রহণযোগ্য।”
তার মতে, এটি শুধু একটি সামরিক বা কূটনৈতিক ইস্যু নয়, বরং সরকারের নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতার প্রতিফলন।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ও নেতানিয়াহুর সমর্থন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এই সমর্থন নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে অন্ধ সমর্থন দিয়ে নেতানিয়াহু দেশের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল করেছেন।
লেবাননে উত্তেজনা অব্যাহত
যদিও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে, তবে লেবাননে সংঘাত থামেনি। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর
হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ডজনখানেক হামলা চালিয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে দক্ষিণ লেবাননের তায়ির শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ। এতে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আঞ্চলিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমাতে পারে, তবে ইসরায়েল-লেবানন ফ্রন্টে সংঘাত অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক
নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। লাপিদের মন্তব্য এই ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক বিভাজন গভীর হচ্ছে।
একদিকে সরকার যুদ্ধবিরতিকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরছে।
কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে ইরান ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা।
যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সময়েই বোঝা যাবে, এটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির দিকে এগোবে, নাকি নতুন করে সংঘাতের জন্ম দেবে।
