ডিএনসিসিতে নিয়ম ভেঙে ৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আত্তীকরণ ও পদোন্নতির অভিযোগ উঠেছে। অডিটে উঠে এসেছে গুরুতর অনিয়ম।
নিয়ম ভেঙে আত্তীকরণ ও পদোন্নতির অভিযোগ
রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)-এ ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ম লঙ্ঘন করে আত্তীকরণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু আত্তীকরণই নয়, তাদের অনেককে দেওয়া হয়েছে পদোন্নতি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব, যা নিয়ে সংস্থাটির ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আত্তীকরণকৃতদের মধ্যে ৪২ জনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠতার নিয়ম মানা হয়নি।
অডিটে উঠে আসে অনিয়মের চিত্র
সম্প্রতি সরকারি অডিটে এই অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। অডিট টিম ডিএনসিসির কাছে আত্তীকরণের সংশ্লিষ্ট নথি চাইলে কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে পারেনি। এমনকি স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনের কোনো নথিও পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর একদিনেই ৫০ জনকে আত্তীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ সংক্রান্ত অফিস স্মারকটি সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি, যা স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রক্রিয়া না মেনেই সিদ্ধান্ত
ডিএনসিসির কর্মকর্তাদের মতে, আত্তীকরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সাধারণত:
- স্থায়ী কমিটির অনুমোদন
- স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মতি
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন
এই ধাপগুলো অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আলোচিত ঘটনায় এসব নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে পদোন্নতি
অভিযোগে বলা হয়, আত্তীকরণের পর অনেক ক্ষেত্রে পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, যন্ত্রচালক কাজী আলমগীর হোসেনকে প্রথমে হিসাব সহকারী এবং পরে রাজস্ব পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি তাকে অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়, যদিও ওই পদে দায়িত্ব পালনের জন্য আরও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন।
একইভাবে, ডিজ ইনফেকশন পরিদর্শক আব্দুল খালেক মজুমদারকে ব্যক্তিগত সহকারী এবং পরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রশাসনিক চাপে সিদ্ধান্ত?
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় সংস্থাটির শীর্ষ পদে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ওপর বিভিন্ন পক্ষ থেকে চাপ ছিল।
এমনকি ‘মবের ভয়’ দেখিয়ে এই আত্তীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে বলে মনে পড়ে না।”
অন্যদিকে তৎকালীন সচিব মাসুদ আলম সিদ্দিক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বর্তমান প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, তিনি ওই সময় দায়িত্বে ছিলেন না। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ
এই ঘটনায় ডিএনসিসির ভেতরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের অনিয়ম সংস্থার প্রশাসনিক কাঠামো ও শৃঙ্খলা দুর্বল করে দিচ্ছে।
ডিএনসিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসন সংস্থায় এ ধরনের অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না,
বরং সেবার মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অডিটে উঠে আসা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।
