গোপনে আফ্রিকা সফরে তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। এসওয়াতিনিতে বৈঠক ঘিরে চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র আকস্মিক আফ্রিকা সফর ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই আফ্রিকার ছোট্ট দেশ এসওয়াতিনি সফর এবং সেখানে দেওয়া তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এমনকি বেইজিং তার এই সফরকে “গোপনে পলায়ন” আখ্যা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কটূক্তিও করেছে।
হঠাৎ সফর, স্পষ্ট বার্তা
তাইওয়ান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট লাই শনিবার হঠাৎ করেই এসওয়াতিনিতে পৌঁছান। সফরটি আগে থেকে প্রকাশ করা হয়নি, যা কূটনৈতিক কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় এমসোয়াতির সঙ্গে বৈঠকে লাই চিং-তে স্পষ্টভাবে বলেন, তাইওয়ান একটি স্বাধীন সত্তা হিসেবে বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অধিকার রাখে। কোনও দেশ এই অধিকার খর্ব করতে পারে না।
এই বক্তব্য মূলত চীনের প্রতি পরোক্ষ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে।
‘গোপন কূটনীতি’ কেন?
তাইওয়ানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের সফরে অনেক সময় “আগে পৌঁছে পরে ঘোষণা” কৌশল ব্যবহার করা হয়। এতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বাইরের চাপ এড়ানো যায়।
এই সফরে প্রেসিডেন্ট লাই একটি এসওয়াতিনি সরকারি বিমান ব্যবহার করেন, যা সফরটিকে আরও গোপনীয় রাখতে সহায়তা করেছে।
চীনের কঠোর ভাষার প্রতিক্রিয়া
চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর এক বিবৃতিতে লাই চিং-তের সফরের তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে তার আচরণকে “রাস্তা দিয়ে
দৌড়ানো ইঁদুরের মতো” বলে উল্লেখ করা হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরল কূটনৈতিক ভাষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীন পুনর্ব্যক্ত করেছে, তাইওয়ান তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কোনও দেশ দ্বীপটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তাইওয়ানের পাল্টা জবাব
চীনের বক্তব্যকে “অশোভন ও নিম্নমানের” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল।
সংস্থাটি জানায়, প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফরের জন্য বেইজিংয়ের অনুমতির প্রয়োজন নেই।
তারা আরও অভিযোগ করে, চীন আন্তর্জাতিক পরিসরে তাইওয়ানের কূটনৈতিক অবস্থান সংকুচিত করতে ধারাবাহিকভাবে চাপ প্রয়োগ করছে।
সীমিত কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাড়ছে গুরুত্ব
বর্তমানে বিশ্বে মাত্র ১২টি দেশ তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যার মধ্যে এসওয়াতিনি অন্যতম।
ফলে এই সফর তাইওয়ানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছোট হলেও এসওয়াতিনির মতো মিত্র রাষ্ট্রগুলো তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টি
এর আগে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের একটি সফর ঘিরে বিমান চলাচলের অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য,
ফ্রান্স ও জার্মানি চীনের ভূমিকার সমালোচনা করে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক কূটনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
বাড়ছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে তাইওয়ান প্রশ্নে চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
গোপন সফর, কড়া ভাষার প্রতিক্রিয়া এবং পাল্টা বক্তব্য—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
