সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ‘মবের জননী’ আখ্যা দিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর; তদন্ত দাবি।
রিজওয়ানা হাসানকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য
সাংবাদিক আনিস আলমগীর সম্প্রতি এক টক শোতে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান-কে ‘মবের জননী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ইউটিউব চ্যানেল ‘কথা’-এর একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগে ‘মবের জনক’ হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নাম আলোচনায় এলেও এখন নতুন করে ‘মবের জননী’ হিসেবে রিজওয়ানা হাসানের নাম সামনে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ক্ষমতায় থাকার সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ
আনিস আলমগীর তার বক্তব্যে বলেন, রিজওয়ানা হাসান দীর্ঘদিন পরিবেশ রক্ষায় কাজ করলেও ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ পাচ্ছে। তার দাবি, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এসব বিষয় সামনে না এলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় থাকার সময় ব্যবসা দখল, প্রভাব খাটানো এবং বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বপক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সরকারি তদন্তের তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি।
এনজিও কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন
আলোচনায় আনিস আলমগীর আরও দাবি করেন, ক্ষমতায় আসার আগেও এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে ভূমি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে
সমঝোতার মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, কোনো প্রকল্পে অর্থায়ন না পেলে সেটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এই ধরনের অভিযোগগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি, তবে তিনি এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রসঙ্গ
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জীবদ্দশায় দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রিজওয়ানা হাসান বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছেন।
পাশাপাশি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ‘মব’ সৃষ্টি করে ট্রাস্টিদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে
এবং এতে রিজওয়ানা হাসানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে এসেছে।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আনিস আলমগীর তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অতীত ইস্যু নিয়ে সরকার ব্যস্ত থাকলেও সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
তার মতে, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট
উল্লেখিত বক্তব্যগুলো মূলত একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মতামত ও অভিযোগভিত্তিক। এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
বা সরকারি তদন্তের ফলাফল প্রকাশ পায়নি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে,
এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় এটি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
