হামের টিকা বন্ধের সিদ্ধান্তে দেশে ৩ শতাধিক শিশুর মৃত্যু ও ৩০ হাজার শিশুর বিকলাঙ্গ হওয়ার শঙ্কা। ইউনুস সরকার ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার দাবিতে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে জনস্বাস্থ্য খাতে এমন নজিরবিহীন বিপর্যয় আগে কখনো দেখা যায়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের যাঁতাকলে পড়ে আজ বলি হচ্ছে দেশের নিষ্পাপ শিশুরা। অভিযোগ উঠেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি টিকাদান কর্মসূচি, বিশেষ করে হামের (Measles) টিকা প্রদান বন্ধ করে দেওয়ার ফলে দেশজুড়ে ৩ শতাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এই মৃত্যুকে নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক ও সংক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
টিকা বন্ধের মরণকামড়: হামের ছোবলে নীল শৈশব
বাংলাদেশে হামের টিকা মূলত সরকারি টিকাদান কর্মসূচির (EPI) মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হতো।
কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই সরবরাহ চেইন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। সরকারি কেন্দ্রগুলোতে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং অনেক স্থানে কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়।
এর ফলে যে হাম একসময় নিয়ন্ত্রিত ছিল, তা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় এ পর্যন্ত ৩ শতাধিক শিশু মারা গেছে।
এই ট্র্যাজেডি কেবল শোকের নয়, বরং রাষ্ট্রের চরম উদাসীনতার এক জীবন্ত দলিল।
৩০ হাজার শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে: বিকলাঙ্গ ও অটিজমের ঝুঁকি
টিকাদান বন্ধের প্রভাব কেবল মৃত্যুতেই সীমাবদ্ধ নেই।
চিকিৎসকদের মতে, হামের সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া শিশুদের একটি বিশাল অংশ দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছে।
- অটিজমের শঙ্কা: সময়মতো টিকা না দেওয়ায় স্নায়বিক জটিলতার কারণে কয়েক হাজার শিশু অটিজমের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
- শারীরিক বিকলাঙ্গতা: হাড়ের ক্ষয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে প্রায় ৩০ হাজার শিশু স্থায়ীভাবে বিকলাঙ্গ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ এভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার দায়ভার বর্তমান প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
বিচার দাবি: ইউনুস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মামলার দাবি
সাধারণ মানুষের মাঝে এখন একটাই দাবি—শিশুদের এই ‘নীরব হত্যাকাণ্ডের’ বিচার।
ক্ষুব্ধ জনতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার সময়ের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন, প্রয়োজনীয় টিকা সরবরাহ না করে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।
বিএনপি সরকারের প্রতি আলটিমেটাম: আন্দোলনের হুশিয়ারি
বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকারের প্রতিও কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন,
যদি এই ‘খুনী’ চক্রকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয় বা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করা হয়, তবে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে যারা শিশুদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
কেন এই অবহেলা?
প্রশ্ন উঠেছে, কেন একটি অপরিহার্য কর্মসূচি বন্ধ করা হলো? এটি কি কেবলই অযোগ্যতা না কি এর পেছনে কোনো বিশেষ মহলের এজেন্ডা ছিল? দেশের শক্তিশালী ও স্থানীয় ভিত্তির টিকাদান কর্মসূচিকে ধ্বংস করে বিদেশি দাতা সংস্থা বা বিশেষ করপোরেট গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গভীর অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।
ইতিহাসের কাঠগড়ায় বর্তমান ও অতীত
শিশুরাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ। অথচ বাংলাদেশে আজ সেই ভবিষ্যৎকেই বিপন্ন করে তোলা হয়েছে।
ইউনুস সরকারের আমলে নেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্তগুলো আজ লাশের সারি দীর্ঘ করছে।
যদি এখনই দায়ীদের বিচার না হয় এবং টিকাদান কর্মসূচি পূর্ণশক্তিতে শুরু করা না হয়, তবে এই জাতি কখনোই দায়মুক্ত হতে পারবে না।
ইতিহাসের পাতায় এই সময়টি কেবল ‘অযোগ্যতার শাসন’ হিসেবে নয়, বরং ‘শিশুদের ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
জেগে ওঠার সময় এখনই, নতুবা আগামীর প্রতিটি শিশুর কান্না বর্তমানের শাসকদের তাড়া করে ফিরবে।
