ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
অনলাইন ডেস্ক | অনলাইন ভার্সন
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া হতো বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
তিনি দাবি করেছেন, ওই সময় প্রেস উইং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে কাজ করত এবং বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকা খাটো করে দেখানোর প্রবণতা ছিল।
ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক দাবি
বুধবার (৬ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন সায়ের।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে চাপ ও হুমকিমূলক আচরণ করা হতো।
তিনি তার পোস্টের সঙ্গে একটি অডিও রেকর্ডও সংযুক্ত করেন, যা তার ভাষায় অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অডিও রেকর্ড ও কথোপকথনের দাবি
সায়ের দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই ধারণ করা একটি কথোপকথনে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের প্রেসসচিব তারিক চয়ন এবং সাবেক উপ-প্রেসসচিব আজাদ মজুমদারের মধ্যে আলোচনা হয়।
অডিওতে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বিভিন্ন মন্তব্য শোনা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক
সায়েরের দাবি অনুযায়ী, ওই কথোপকথনে গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে মতপার্থক্য উঠে আসে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং বিশেষভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করত।
তবে এই অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
তারিক চয়ন ও আজাদ মজুমদার প্রসঙ্গ
অভিযোগে আরও বলা হয়, কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনের প্রেসসচিব তারিক চয়ন ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্ট ও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ছবি শেয়ার করার কারণে চাপের মুখে পড়েন।
এ বিষয়ে সাবেক প্রেস উইং কর্মকর্তারা তার কাছে জবাবদিহি চান বলে দাবি করা হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বয়ানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
প্রেস উইংয়ের ভূমিকা, সরকারি যোগাযোগ কৌশল এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা—এই বিষয়গুলো আবারও আলোচনায় এসেছে।
এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ড. ইউনূস বা সংশ্লিষ্ট প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এই অভিযোগ নতুন করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রেস উইংয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
