দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,৪৯৪ শিশু।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৪৯৪ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এ তথ্য প্রকাশ করে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
৫৪ দিনে প্রাণ গেছে ৩৪৩ শিশুর
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫৪ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জন শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ২৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, যদিও তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশের বয়স কম এবং তাদের অনেকেই নিয়মিত টিকাদানের আওতায় ছিল না। ফলে জটিলতা দ্রুত বাড়ছে।
একদিনে ১,৪৯৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ৪৯৪ শিশুকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া এক হাজার ২১২ জনকে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে চিকিৎসার আওতায় নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট ও তীব্র দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও পানিশূন্যতার জটিলতাও তৈরি হচ্ছে।
সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত সাত শিশুর মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া ঢাকায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগে মারা গেছে একজন করে শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সিলেট অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সেখানে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কেন বাড়ছে হামের সংক্রমণ?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে হামের সংক্রমণ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের ঝুঁকি বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কতা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের দ্রুত হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
পাশাপাশি শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এছাড়া আক্রান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
তারা জরুরি ভিত্তিতে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তাদের মতে, সময়মতো টিকা গ্রহণই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
