ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুরু হলো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।
ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী দিল ইসলামী আন্দোলন
আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রাজধানীর দুই গুরুত্বপূর্ণ সিটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে দলটি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী করা হয়েছে আতিকুর রহমান মুজাহিদকে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ ফজলুল করিম মারুফ, যিনি দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক।
সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, যিনি চরমোনাই পীর নামেও পরিচিত।
রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন বার্তা
ঢাকার দুই সিটিতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ঘোষণা রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে তুলনামূলক ভালো ফল করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে দলটি।
বিশেষ করে তরুণ ও ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভর করেই দলটি এবার নগর রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা সিটি নির্বাচন শুধু স্থানীয় সরকারের ভোট নয়; বরং জাতীয় রাজনীতির শক্তি যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ফলে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ঘোষণা বড় দলগুলোর জন্যও রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
কারা হচ্ছেন মেয়র প্রার্থী?
ঢাকা উত্তরে মনোনয়ন পাওয়া আতিকুর রহমান মুজাহিদ দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন।
ছাত্র ও তরুণদের মধ্যে তার সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে বলে দলীয় নেতারা দাবি করছেন।
অন্যদিকে দক্ষিণে মনোনয়ন পাওয়া শেখ ফজলুল করিম মারুফ ইসলামী আন্দোলনের প্রচার ও দাওয়াহ কার্যক্রমের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই প্রার্থীকেই মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক সক্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
চরমোনাই পীরের বক্তব্য
মতবিনিময় সভায় সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “আমরা শুধু এমপি-মন্ত্রিত্বের জন্য রাজনীতি করি না। ইসলাম, দেশ, জাতি ও মানবতার
পক্ষে আমাদের অবস্থান সবসময় অটুট থাকবে।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জোট হলেও তা হবে আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে।
তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, ইসলামী আন্দোলন নিজেদেরকে শুধু ধর্মভিত্তিক দল হিসেবে নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
‘জুলাই সনদ’ নিয়ে মন্তব্য
সভায় তথাকথিত ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গেও কথা বলেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখতে চায় তার দল।
যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি, তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে— সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমঝোতা ও সংস্কার আলোচনার প্রেক্ষাপটেই এ মন্তব্য এসেছে।
ঢাকার নির্বাচনে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নগরজীবনের সংকট— যেমন যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দূষণ ও নাগরিক সেবা— এবারের নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
এছাড়া তরুণ ভোটার এবং প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া নাগরিকদের ভোটও ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক কৌশল
গত কয়েক বছরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়েছে। জাতীয় নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন
এবং বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলটি রাজনৈতিকভাবে দৃশ্যমানতা বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটি মূলত নগরভিত্তিক ভোটব্যাংক তৈরি করতে চায়।
বিশেষ করে ধর্মীয় মূল্যবোধ, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির বার্তা সামনে এনে ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল নিচ্ছে দলটি।
সামনে কী?
ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ঘোষণা রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।
এখন বড় প্রশ্ন— অন্যান্য বড় দল কাকে প্রার্থী করে এবং নগর রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
এবারের ঢাকা সিটি নির্বাচন শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়; বরং আগামী জাতীয় রাজনীতির দিকনির্দেশনাও অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে।
