শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো শেডে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।
রাতের অগ্নিকাণ্ডে উদ্বেগ, দ্রুত পদক্ষেপে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টা ২৪ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন কার্গো শেডে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
কার্গো শেডে কীভাবে আগুন লাগে?
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের কার্গো শেডের মালামাল সংরক্ষণের একটি স্থানে আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান।
দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমে যায়।
১৪ মিনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আগুন
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১১টা ২৪ মিনিটে আগুনের খবর পাওয়ার পর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। একপর্যায়ে রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
অর্থাৎ মাত্র ১৪ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এতে বিমানবন্দরের অন্যান্য স্থাপনা ও সংরক্ষিত মালামালের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে জানা যাবে আগুনের প্রকৃত কারণ
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বৈদ্যুতিক ত্রুটি, শর্ট সার্কিট অথবা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগুনের উৎস এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পণ্য কার্গো শেডের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।
ফলে এমন স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে নিয়মিত অগ্নি-নিরাপত্তা মহড়া, বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে আগুন লাগলেও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে আগুনের কারণ এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ও অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
