ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও সাবেক এমপি সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা।
সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও সাবেক এমপি সনির নাম এজাহারে
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সভা ও মিছিলের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম এবং সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এই মামলায় আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
তিনজন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব সুয়াবিল এলাকার মো. জামান বাবু (২৩) এবং সাইফুল ইসলাম সজিব (২৫)। অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এজাহারে যাদের নাম রয়েছে
মামলার এজাহারে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম এবং সাবেক এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে ঘটনার প্রধান হুকুমদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, বখতিয়ার সাঈদ ইরান, সাবরিনা চৌধুরী, জসিম উদ্দিন মুহুরী, ফোরকান উদ্দিন বাচ্চুসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্ত এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তির নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মশাল মিছিলের অভিযোগ
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট-মাইজভান্ডার সড়কে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিছিল চলাকালে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অংশগ্রহণকারীরা পালানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে চারটি বাঁশের তৈরি মশাল জব্দ করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সভার ছবি
মামলার ঘটনার আগে ফটিকছড়ির রোসাঙ্গিরি এলাকার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্রামাগারে শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
সেই সভার বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।
পরে মিছিল ও সভা ঘিরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন,
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ও পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এই মামলা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
মামলায় সাবেক মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্যসহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এখন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
