বাংলাদেশে মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না। সাংগঠনিক শৃঙ্খলার আহ্বান।
মবতন্ত্র আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে: রাজনৈতিক শৃঙ্খলার আহ্বান যুবদল সভাপতির
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের প্রবণতা আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে রাজনৈতিক ভাষা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং জনগণের আস্থা অর্জনের বিকল্প নেই। মবসন্ত্রাস কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে সফল হয় না।
সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের হোটেল ভিক্টরে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেই এ সভার আয়োজন করা হয়।
রাজনৈতিক ভাষা ও সাংগঠনিক কাজের ওপর জোর
মোনায়েম মুন্না নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, “চতুর কথাবার্তা বলে রাজনীতিতে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না। রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলতে হবে এবং সাংগঠনিক কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বেফাঁস বক্তব্য ও বিতর্কিত মন্তব্য রাজনৈতিক সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে দলের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি
যুবদল সভাপতি জানান, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ এবং সাংগঠনিক অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের কমিটির প্রায় ১১৪ জন সদস্যকে নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি যাঁরা দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থেকেও এবার স্থান পাননি, তাঁদের অবদানও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অন্তত ১০০ জনকে বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
সিনিয়র-জুনিয়র নয়, গুরুত্ব পেয়েছে অবদান
এক প্রশ্নের জবাবে মোনায়েম মুন্না বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সিনিয়র বা জুনিয়র বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।
বরং আন্দোলন-সংগ্রামে প্রত্যেক নেতার ভূমিকা, ত্যাগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে সামাজিক কর্মসূচিতে যুবদলের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল।
তবে ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
সভায় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে অনেক নেতাকে বহিষ্কার, শোকজ এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
কেউ দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন,
“পদ কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, এটি দলের আমানত। এমন কাজ করতে হবে, যাতে যুবদলের সুনাম বৃদ্ধি পায়।”
সভায় উপস্থিত নেতারা
মতবিনিময় সভায় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল, সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল, সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল টিটো,
প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পুসহ
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে যুবদল সভাপতির এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, শৃঙ্খলা
এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে মবতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁর সতর্কবার্তা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
