প্রায় ৩০ বছর পর সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের
তিন দশক পর নতুন মোড় সালমান শাহর মৃত্যু রহস্যে
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর মামলাটি নতুন মোড়ে পৌঁছেছে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ও বিতর্কিত এই মৃত্যুরহস্য নিয়ে নতুন করে জনমনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মরদেহ উত্তোলন ও পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমোদন প্রদান করেন।
কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রস্তুতি
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিলেটে অবস্থিত হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থান থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলন করা হবে। এরপর আইনানুগভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।
প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ উত্তোলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তাদের আশা, আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
১৯৯৬ সালের সেই আলোচিত ঘটনা
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে তার মরদেহ নিজ জেলা সিলেটে দাফন করা হয়। সে সময় ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও সালমান শাহর পরিবার ও ভক্তদের একটি বড় অংশ শুরু থেকেই মৃত্যুর পেছনে রহস্য এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আসছিল।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়কদের একজন হিসেবে পরিচিত সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
হত্যা মামলা হিসেবে নতুন তদন্ত
গত বছরের ২0 অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত পুরোনো অপমৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর একদিন পর, ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, ব্যবসায়ী ও সাবেক
চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও কয়েকজন। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে যেসব অভিযোগ
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন পরিবারের সদস্যরা সালমান শাহকে তার শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং আদালতে অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ফলে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের রায়ের আগ পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয়।
নতুন ময়নাতদন্তে কী জানা যেতে পারে?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় পর মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত হলেও আধুনিক ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া
সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে মৃত্যুর কারণ, আঘাতের ধরন এবং ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নতুন তথ্য তদন্তে সহায়ক হতে পারে।
সালমান শাহর মৃত্যু রহস্যের সত্য উদঘাটনে আদালতের এই নির্দেশকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এখন নজর রয়েছে তদন্ত সংস্থার পরবর্তী কার্যক্রম এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের ফলাফলের দিকে।
