প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। সম্পত্তি সংক্রান্ত নতুন নথিও চেয়েছে তদন্ত সংস্থা।
অভিষেককে ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, চাইল ইডি নতুন নথি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বহুল আলোচিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে সম্পত্তি সংক্রান্ত অতিরিক্ত নথিপত্র চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাটি।
সোমবার কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল ১১টার কিছু আগে তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থিত হন এবং রাত ১০টার দিকে দফতর ত্যাগ করেন। প্রায় ১১ ঘণ্টাব্যাপী এই জিজ্ঞাসাবাদ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কেন জিজ্ঞাসাবাদ করল ইডি?
ইডি সূত্রের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন ছিল। সেই সূত্র ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেশ কিছু আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে তদন্তকারীদের দাবি, কিছু প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে আরও কিছু নথিপত্র সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
নতুন করে যেসব নথি চাওয়া হয়েছে
ইডির পক্ষ থেকে মূলত সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এর আগে জমা দেওয়া নথির বাইরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, নতুন নথিগুলো বিশ্লেষণ করলে মামলার আর্থিক লেনদেন ও সম্পদ সংক্রান্ত কিছু বিষয় আরও পরিষ্কার হতে পারে। এসব নথি আইনজীবী অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
আপাতত ফের তলব নয়
তদন্ত সংস্থার সূত্র বলছে, এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার তলব করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তবে তদন্তের অগ্রগতি এবং নতুন নথিপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আবারও তাকে ডেকে পাঠানো হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তের এই ধাপটি মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন তথ্য ও নথি হাতে পাওয়ার পর তদন্তের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হবে।
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পরই ইডির তলব
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মাত্র একদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
রোববার ভবানী ভবনে সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাকে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
ফলে টানা দুই দিনে দুই পৃথক তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে হয়েছে তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে।
কী বললেন অভিষেক?
সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, তদন্তে তিনি সবসময় সহযোগিতা করে আসছেন।
অভিষেক বলেন, “এই ঘটনায় আমাকে শেষবার ডাকা হয়েছিল ২০২৩ সালে। তখনও আমি হাজির হয়েছিলাম।
সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা করেছি।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতি তিনি সম্মান দেখিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
ফলে তাকে কেন্দ্র করে যেকোনো তদন্ত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে আসছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তদন্তের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ
বর্তমানে তদন্তকারীরা নতুন নথিপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন। সেগুলো হাতে পাওয়ার পর বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলা পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত দুর্নীতি তদন্তগুলোর একটি।
ফলে মামলার প্রতিটি অগ্রগতি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
